সকালবেলা। কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকার একটি ভবনের সামনে ভিড় জমেছে অসহায়, বয়স্ক ও অস্বচ্ছল মানুষের। কারো হাতে পুরনো একটি কার্ড, কারো চোখে জীবনের ক্লান্তির ছাপ। বয়সের ভারে ন্যুব্জ অনেকেই ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারেন না। তবুও তারা এসেছেন একটুখানি সহায়তার আশায়। কারণ তারা জানেন, এখানে কেউ খালি হাতে ফেরে না।
এটি কোনো দোকান নয়, কোনো সরকারি সাহায্য কেন্দ্রও নয়। এটি ‘নামাজ ঘর মানবসেবা সংস্থা’, কেরানীগঞ্জের মানবতার ফেরিওয়ালা আয়নাল হোসেনের গড়ে তোলা মানবসেবার এক অনন্য প্রতিষ্ঠান।
ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় সারি সারি সাজানো চাল, ডাল, তেল, আটা, চিনি, ছোলা, মুড়ি ও খেজুরসহ নানা খাদ্যসামগ্রী। প্রতিটি প্যাকেট যেন এক একটি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর প্রতিশ্রুতি।
প্রায় এক যুগ আগে, সমাজের অসহায় মানুষের কষ্ট দেখে নিজের ভেতর এক ধরনের দায়বদ্ধতা অনুভব করেন আয়নাল হোসেন। তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নেন, শুধু নিজের জন্য নয়, বেঁচে থাকবেন মানুষের জন্য। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই জন্ম নেয় ‘নামাজ ঘর মানবতার সেবা’।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাসিক ও বাৎসরিক কার্ডের ভিত্তিতে এলাকার কয়েক হাজার অসহায়, বয়স্ক ও বিধবা নারীসহ অস্বচ্ছল পরিবারকে নিয়মিত খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি এবং যাদের দেখার মতো কেউ নেই তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে তিন হাজার পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। এসব সহায়তা পেয়ে অনেক অসহায় মানুষ তাদের কষ্টের মাঝেও খুঁজে পান স্বস্তি।
স্থানীয় এক বৃদ্ধা জানান, আমার দেখার মতো কেউ নেই। এখান থেকে নিয়মিত খাবার পাই। আল্লাহ আয়নাল সাহেবকে ভালো রাখুক।
শুধু খাদ্য সহায়তাই নয়, মানবকল্যাণে আরও নানা উদ্যোগ নিয়েছেন আয়নাল হোসেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে নামাজ ঘর, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং নারীদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। সমাজের অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে নিজের উপার্জিত অর্থের প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যয় করছেন তিনি।
আয়নাল হোসেন বলেন, অসহায় মানুষের মুখে হাসি দেখলেই আমার শান্তি লাগে। যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
কেরানীগঞ্জের মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন ব্যবসায়ী নন বরং আশ্রয়দাতা ও একজন সহমর্মী মানুষ। অসহায় মানুষের চোখের পানি মুছে দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন সত্যিকারের মানবতার ফেরিওয়ালা।
মানবতার এই নীরব সৈনিকের জন্য স্থানীয়রা প্রার্থনা করেন দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের, যাতে তিনি আরও দীর্ঘদিন অসহায় মানুষের পাশে থাকতে পারেন।
সময়ের আলো/আরবিএন