মসজিদ উন্নয়নের জন্য খেলার মাঠ ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম জাফরের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তারা ওসির অপসারণ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বেশিরভাগ সময় মাঠটি খালি পড়ে থাকে। কেউ যাতে জায়গা নিয়ে চাঁদাবাজি করতে না পারে, সে কারণে মসজিদ উন্নয়নের জন্য মাঠটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কেউ বিক্ষোভ করলে পুলিশের কিছু করার নেই।
এর আগে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে একটি মিছিল সলঙ্গা বাজার প্রদক্ষিণ শেষে থানার প্রধান ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন স্থানীয়রা।
বিক্ষোভকারী ঘুড়কা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বলেন, থানার সামনের মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের তরুণদের খেলাধুলার একমাত্র ভরসা ছিল। সেটি ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়ায় স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের নীরব সমর্থনেই এ কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, খেলার মাঠ সবার অধিকার; এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে ইচ্ছেমতো ভাড়া দেওয়া হবে। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সলঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এম দুলাল উদ্দিন বলেন, আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠটি ভাড়া দিত। বর্তমানে থানার মসজিদ উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়ায় স্থানীয়রা বিক্ষোভে নেমেছেন।
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর বলেন, মাঠটি থানার দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি। সরিষা শুকানোর বিনিময়ে ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই থানার মসজিদ উন্নয়ন তহবিলে টাকা দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে টাকা দাবি করলে বৃহস্পতিবার বৈঠক করে সরিষা শুকানোর বিনিময়ে ৬০ হাজার টাকা মসজিদ উন্নয়ন তহবিলে জমা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা মাঠে সরিষা শুকাতে এলে অবৈধভাবে টাকা দাবি করা ব্যক্তিরা বাধা দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মাঠ ভাড়া দেওয়া হয়েছে এ কথা জানার পর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মিছিল ও স্লোগান দেন।
পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকে ঘিরে কেউ যাতে অপপ্রচার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন