বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর পরপরই বিশ্বের সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আরও কয়েক ঘণ্টা পর এটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছেন তিনি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গত বছর ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক বাতিল করেন। সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপির মধ্যে ৬ জন ট্রাম্পের শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিন বিচারপতি এই প্রক্রিয়া সমর্থন করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে আদালত গত বছরের ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি নতুন করে বিশ্বের সব দেশের আমদানি পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এরপর আরও কয়েক ঘণ্টা পর এটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেন ট্রাম্প।
সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে করা এক পোস্টে তিনি এ ব্যাপারে লিখেছেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি যে, আজ থেকেই বিশ্বের সব দেশের ওপর আমাদের আরোপ করা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হলো। অনেক দেশ বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছিল এবং এর কোনো বিচারও হচ্ছিল না (যতক্ষণ না আমি ক্ষমতায় এসেছি!)। এখন থেকে আইন মেনেই তাদের ওপর এই বাড়তি কর কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, এই ১৫ শতাংশ শুল্ক আগামী ১৫০দিন কার্যকর থাকবে। এটিকে স্থায়ী ও আইনি বৈধতা দিতে তার প্রশাসন কাজ করবে।
এর আগে, গতকাল রায় প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় ‘জাতির জন্য অসম্মানজনক’। বিচারপতিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু বিচারপতির জন্য তিনি ‘সত্যিকারে লজ্জা বোধ করছেন’। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বিচারপতিরা ‘বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা’ করেছেন।
গত বছর জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইন (আইইইপিএ)) এর অধীনে বিশ্বের সব দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।
আদালত বলেছেন, ট্রাম্প তার ক্ষমতার অধিক ব্যবহার করেছেন। শুল্ক আরোপের আগে তার কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত ছিল।
/ইউএমএইচ