লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে অব্যাহত হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের এই ‘মাসোহারা’ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক জেলে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের কাজ নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী জেলেদের দাবি, নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ করে চর কালকিনি ইউনিয়ন সংলগ্ন মাছ ঘাটগুলোতে নৌ-পুলিশের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে।
জেলেদের অভিযোগ অনুযায়ী, বড় নৌকা থেকে মাসিক ১০ হাজার, মাঝারি নৌকা থেকে ৫ হাজার এবং ছোট নৌকাগুলো থেকে ১ হাজার টাকা করে মাসোহারা দাবি করা হচ্ছে।
জেলেরা জানান, পুলিশ সরাসরি টাকা না নিয়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী আড়তদার ও দালালের মাধ্যমে এই অর্থ আদায় করে। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের ‘অবৈধ কারেন্ট জাল’ বা অন্য কোনো অযুহাতে সাজানো মামলায় জেল-হাজতে পাঠানোর ভয় দেখানো হয়।
ঋণের বোঝা আর পুলিশের অত্যাচারে টিকতে না পেরে অনেক জেলে যাযাবর জীবন বেছে নিচ্ছেন।
দিদার হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী জেলে বলেন, এনজিওর কিস্তি দেবো না পুলিশের টাকা দেবো? পেটের দায়ে এখন অনেকে নদীতে নামা ছেড়ে গার্মেন্টসে কাজ নিচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে মজুচৌধুরীঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. আজিজ হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি দাবি করেন, পুলিশ আইন মেনেই কাজ করছে। সাম্প্রতিক অভিযানে অবৈধ জাল জব্দ করে মামলা দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে, রামগতি ও কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য সাহা জানান, জেলেদের সরকারি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে নৌ-পুলিশের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। দালালের দৌরাত্ম্য সম্পর্কেও তিনি অবগত নন বলে জানান।
উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস এই মেঘনা নদী।
জেলেদের দাবি, দ্রুত এই ‘পুলিশি হয়রানি’ বন্ধে এবং নদীকে দালালমুক্ত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন কঠোর পদক্ষেপ নেয়। অন্যথায়, ইলিশের এই জনপদ একসময় জেলেশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন