বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রচার নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) এ নিয়ে উদাসীন বলা যায়। অনেকে তো মজা করে এটিকে পিকনিক লিগও বলে থাকেন। অথচ বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণে খেলছেন জাতীয় দলের সব তারকা ও অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে উঠে আসা ক্রিকেটাররা। তবে এসব সমালোচনার জবাবে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই আসরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আসন্ন পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আশরাফুল সময়ের স্বল্পতার বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই কম সময়ের একটা উইন্ডো। এই সময়ে ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তান সিরিজের জন্য যতটা সম্ভব ভালো প্রস্তুতির দিকেই মনোযোগ দিয়েছে।’
প্রচার নিয়ে প্রশ্নে তিনি গণমাধ্যমের দিকেও ইঙ্গিত করেন। আশরাফুল বলেন, ‘আপনারাই প্রচার করবেন। আপনারা করলে সেটাই প্রচার হবে।’
মাঠের প্রসঙ্গে এসে সাবেক এই অধিনায়ক আস্থা রাখেন দেশের দুই প্রধান পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের ওপর। বিশেষ করে মোস্তাফিজকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। মোস্তাফিজ ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের হয়ে খেলছে এবং শুরু থেকেই সে শীর্ষ বোলার।’
ভারতের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজে পাঁচ উইকেট নিয়ে মোস্তাফিজ যে ঝড় তুলেছিলেন, সেটিও স্মরণ করেন আশরাফুল। তার ভাষায়, প্রায় এক দশক হয়ে গেছে, এখন তাসকিন ও মোস্তাফিজের নেতৃত্বে পেস ইউনিট গড়ে ওঠা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ‘এখন প্রায় ১০ বছর হয়ে গেছে। তাসকিন আর মোস্তাফিজ আমাদের পেস ইউনিটকে নেতৃত্ব দেবে এটাই স্বাভাবিক।’
আরও পড়ুন
বাংলাদেশের পেস বোলিং ভান্ডার আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ বলেও মনে করেন আশরাফুল। তিনি জানান, এখন নিয়মিতভাবে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারে এমন ৮ থেকে ১০ জন পেসার রয়েছে দলে। তার মতে, ‘এটা আমাদের জন্য বড় ইতিবাচক দিক।’
আগামী বছর ঘন সূচি এবং ২০২৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপ সামনে রেখে স্কোয়াড রোটেশনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। আশরাফুল বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে আমাদের প্রায় ১৮টি ওয়ানডে ও টেস্ট ম্যাচ আছে। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এই চাপ সামলাতে আমাদের বড় একটি খেলোয়াড়ের ভান্ডার দরকারÑ ৪০ থেকে ৫০ জনের। যাতে সঠিকভাবে রোটেশন করা যায়।’
শুধু আশরাফুল নন, নর্থ জোনের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও মনে করেন, পাকিস্তান সিরিজের আগে এই টুর্নামেন্ট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তার ভাষ্যে, ‘এই টুর্নামেন্টটি আমাদের জন্য দারুণ একটি প্রস্তুতির সুযোগ। নতুন খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা ক্রিকেটাররাও নিজেদের প্রমাণের মঞ্চ পাবে। চারটি শক্তিশালী দল ও ভালো দুই ভেন্যুতে খেলা হওয়ায় প্রতিযোগিতার মানও উঁচু হবে। উইকেট হবে স্পোর্টিং ও রানবান্ধব, যা প্রস্তুতির জন্য আদর্শ। আমরা যদি এখানে ভালো করতে পারি, তা হলে পাকিস্তান সিরিজে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেতে পারব।’
দেশের সেরা ৬০ ক্রিকেটারকে চার দলে ভাগ করে ডাবল লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। দীর্ঘদিন পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ফিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে। উইকেট ভালো এবং স্পোর্টিং, যা দুদলের জন্যই সমান সুযোগ তৈরি করবে। যে দল ভালো খেলবে, তারাই জিতবে। আমরা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে।’
সব মিলিয়ে বিসিএলকে ঘিরে প্রচারের অভাব থাকলেও আশরাফুল-শান্তর মতে এর মূল লক্ষ্য স্পষ্টÑ জাতীয় দলকে আরও প্রস্তুত, ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামুখী করে তোলা।
এএডি/