খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার বাইরে বিক্রি দীর্ঘদিনের এবং নিম্নমানের খাবার ও পরিমাণ কম দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালের রান্নাঘরে কর্মরত বাবুর্চি পরিচয়ে মফিজকে হাতেনাতে মুরগির রান্না করা মাংস, পলিথিন ভর্তি ভাত, কাঁচকলা লাউসহ আটক করলে তিনি বলেন, এইগুলো আমি পরিবারের খাওয়ার জন্য চেয়ে নিয়ে আসছি।
হাসপাতালের খাবার চুরির ঘটনায় দুটি মোটরসাইকেল তারা করলে একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। সে শান্ত নামে এক কর্মচারীর নাম বলেন। তিনি বলেন শান্ত তাকে এসব খাবার দিয়েছে। সংবাদকর্মী ও এলাকাবাসীরা তিনটি পলিথিনে প্রায় ১২০ পিচ মুরগির মাংস কাঁচকলা ভাত হাতেনাতে আটক করে।
এসব বিষয়ে জানার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলামকে ফোনে জানানো হলে, তিনি বলেন, শান্তর সঙ্গে কথা বললাম ওয়ার্ড থেকে কিছু রোগী বিদায় হয়। সেখান থেকে মনে হয় ১০-১২ পিস মুরগির মাংস বেঁচে ছিল ঐ মাংস খাওয়ার জন্য নিয়েছে। অথচ দেখা যায় তিনটি পলিথিনে মোড়ানো প্রায় ১২০ পিস মাংস হাতেনাতে আটক করলেও কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা তাদের দায়িত্বের উপর প্রশ্ন তুলছেন রোগীরা।
এ ঘটনার পর চিকিৎসা নিতে আসা বয়রা থেকে ইজি বাইক চালক রোগী শিহাব মিস্ত্রি বলেন, এসব পুরানো খবর নতুন খবর থাকলে কন। রোগীদের খাবার কম দিয়ে যেসব খাবার বেঁচে যায়। এসব খাবার আশপাশের বিভিন্ন হোটেল ও কাঁচা মাছ মাংস ডিম এলাকার বাজারে বিক্রি হয়।
সাতক্ষীরা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সাবিনা আক্তার বলেন, আমি গত মাসে এখানে ভর্তি হয়েছি যেদিন ভর্তি হয়েছি সেদিনও খাবার পাইনি আজ হাসপাতাল ত্যাগ করছি আজও খাবার পাইনি।
বটিয়াঘাটা থেকে জমি সংক্রান্ত বিবাদের হামলার শিকার শহীদুর রহমান চিকিৎসা নিতে আসা রোগী বলেন, চিকিৎসা নিতে আসে যারা তাদের অনেককে খাবার দেওয়া হয় না। ১২টা থেকে ১টার মধ্যে অনেক রোগী চলে যায়। যারা খাবার নিতে পারে না। এ সব রোগীর খাবার বেঁচে যায়। এমন অভিযোগ তো অনেক রয়েছে, হাসপাতালের খাবার সরবরাহকারী বা কর্মচারী রোগীদের খাবার কম দিয়ে যে খাবার বেঁচে যায়। তা হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাইরে বিক্রি করা হয়।
গত (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রান্নাঘরে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত অভিযানে রোগীদের খাবার নিম্নমানের এবং পরিমাণে কম থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিদিন খাবারের নমুনা পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। নমুনা হিসেবে যে খাবার পাঠানো হচ্ছিল তার মান ভালো। কিন্তু রোগীদের যে খাবার দেওয়া হচ্ছিল তা নিম্নমানের এবং পরিমাণে কম। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বললেও পুনরায় একই অবস্থা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কে সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন করেন স্টুয়ার হাবিব এর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রতিনিয়ত এসব খাবার বাইরে বের হয় কি করে। হাবিবের ছত্রছায়ায় এসব সিন্ডিকেট পরিচালনা করা হয় কি।
যেমন এক কেজি ওজনের মাছ দেওয়ার কথা থাকলেও ৮শ গ্রাম মাছ দেওয়া হয়। ভালো মানের চিকন চালের ভাত দেওয়ার কথা থাকলেও ভাত দেওয়া হয় মোটা চালের। এসব কারণে চিকিৎসাধীন রোগীরা সরকারিভাবে বরাদ্দ খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত খাবার বিক্রির অভিযোগের প্রশ্ন উত্তরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই