সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পোল্ট্রি খামারের দুর্গন্ধ নিয়ে প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ইব্রাহিম হোসেন (২৮) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ সময় তার বড় ভাই রুহুল আমিন (৩৪) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একই পরিবারের ৪জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেড়বাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইব্রাহিম ও আহত রুহুল আমিন ওই গ্রামের ছলেমান শেখের ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মূল অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামসহ একই পরিবারের চারজনকে আটক করেছে।
আটক অন্য তিনজন হলেন আরিফুলের স্ত্রী সাথী আক্তার (২৫), বাবা জামাল উদ্দিন (৬২) ও মা শাহানারা খাতুন (৫৫)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আরিফুল ইসলাম একটি মুরগির খামার পরিচালনা করতেন। ওই খামারের তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ অতিষ্ঠ হয়ে উঠলে সোমবার বিকেলে ইব্রাহিম ও তার ভাই প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আরিফুল ইসলাম ধারালো ছুরি দিয়ে দুই ভাইকে উপর্যুপরি আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রুহুল আমিনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত ইব্রাহিমের স্ত্রী মেঘলা খাতুন বলেন, আমার স্বামী ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। আমাদের একটি সন্তান আছে, আমি নিজেও এখন অন্তঃসত্ত্বা। সামান্য দুর্গন্ধের প্রতিবাদ করায় আমার সন্তানটাকে এতিম করে দিল।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহিন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত চারজনকে আটক করেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সময়ের আলো/জোই