বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টাসহ প্রতারণা করে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জামিন পেলেন গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নোবেলকে হাজির করে পুলিশ। এরপর তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা। দুপুর ২ টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়। পরে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে তদন্ত কর্মকর্তা।
এসময় বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম আদালতকে বলেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বেশ কিছু অপকর্মের হিস্টোরি আছে তার। আসামি অ্যারেস্ট হওয়ার পর বাদীর সঙ্গে আপোসের কথাবার্তা চলছে।
এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ (অনন্যা)।
বিচারক বাদীর কাছে জানতে চান, আপোসের কথা হয়েছে। অনন্যা জানান, হ্যাঁ। এরপর বিচারক দুইজনের কাছে জানতে চান, তারা আপোস চান কিনা। জবাবে দুইজনই হ্যাঁ বলেন।
অপরদিকে নোবেলের আইনজীবী মো. রানা শেখ আপোষের বিষয় তুলে ধরে জামিনের প্রার্থনা করেন। এরপর মামলার বাদীর সঙ্গে আপোস হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ আগামী ধার্য তারিখ ২ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে জামিন দেন।
এর আগে, গতকাল সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রোজকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রতারণা করে নিয়ে আত্মসাৎ করে নোবেল।
বাদীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা করেন। আর এতে অন্য আসামিরা তাকে সহযোগিতা করে।
এ অভিযোগে গত বছরের ১৩ আগস্ট নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন আনাননিয়া শবনম রোজ (অনন্যা)। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে গত ৭ জানুয়ারি পিবিআইয়ের এসআই নুরুজ্জামান পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এফআর