টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। ২০০৭ সালে প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি সবশেষ ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে/ক্যারিবীয় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়ে। স্বল্প দৈর্ঘ্যরে ফরম্যাটে বরাবরই সেরা দল তারা।
ঘরের মাঠে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ফেবারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করে সূর্যকুমার, অভিষেক, বুমরাহরা। গ্রুপপর্বে দুর্দান্ত খেলে চার ম্যাচের চারটিতে জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠে আসে সুপার এইটপর্বে। ভারতের কোটি দর্শক-সমর্থকের প্রত্যাশা ছিল এই পর্বেও দুর্দান্ত খেলবে চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু গ্রুপ-১ থেকে লড়াইয়ের নামা ভারত তাদের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়ে বসে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে যায়।
এক হারই ভারতের বিশ্বকাপ যাত্রায় বাধার দেয়াল তৈরি করে দিয়েছে। সমীকরণ কঠিন হয়ে গেছে। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিততেই হবে সূর্যকুমারের দলকে। একই সঙ্গে গ্রুপের অন্য ম্যাচের ফল দিকেও রাখতে হবে চোখ। কারণ রানরেটে এই মুহূর্তে অনেক পিছিয়ে ভারত। গ্রুপে থাকা দুই শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। ভারতকে শুধু জিতলেই চলবে না, রানরেটও বাড়িয়ে নিতে হবে। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে গেলে টুর্নামেন্টথেকে ভারতের বাদ পড়া অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলে আশা বেঁচে থাকবে।
এদিকে বিশ্বকাপে আজ বিগ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে বিকালে মাঠে নামবে দুদল। এই ম্যাচে যে জিতবে তারাই উঠে যাবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। এবারের আসরে দুর্দান্ত খেলছে তারা। গ্রুপপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রোটিয়া এবং ক্যারিবীয় দুদলই উঠে এসেছে সুপার এইটপর্বে। এই পর্বেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা জয় পেয়েছে। টানা ৫ ম্যাচ জেতা দুদল আজ পরস্পরের মোকাবিলা করবে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুদলই সমানে সমান। তাদের পূর্ব রেকর্ডে চোখ রাখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। এ পর্যন্ত ২৯ বার মুখোমুখি হয়েছে তারা। তাতে ক্যারিবীয়দের ১৫ জয়ের বিপরীতে প্রোটিয়াদের জয় ১৪ ম্যাচে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ক্যারিবীয় টপ-অর্ডার রোস্টন চেজ খেলেননি। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ফিরছেন তিনি। ব্যাটে-বলে দারুণ ছন্দে রয়েছে দলটি। সবশেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শাই হোপ রেকর্ড গড়ে দলকে জিতিয়েছেন। রভম্যান পাওয়েল, জেসন হোল্ডার থেকে শুরু করে গুড়াকেশ মোতি, আকিল হোসেনরা রয়েছেন ফর্মে।
একই চিত্র প্রোটিয়া শিবিরেও। গত বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া দলটির চোখ এবার চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে। সেই লক্ষ্যে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে এইডেন মার্করামের দল। ক্যারিবীয়দের মতো প্রোটিয়া ব্যাটার-বোলাররাও রয়েছেন নিজেদের সেরা ফর্মে। দুই সেরার লড়াইয়ে আজ কে এগিয়ে যায়? ধ্রুপদি লড়াইয়ে জয়ী হিসেবে কারা মাঠ ছাড়ে সেদিকে কোটি ক্রিকেট ভক্তের চোখ।
সময়ের আলো/আআ