চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বাসার টয়লেট থেকে নুরজাহান বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রুস্তমপুর ভাটেরহাট মসজিদ বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুরজাহান বেগম কুয়েত প্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী। তিনি চার সন্তানের জননী।
নিহতের মেয়ে নুর সুলতানা তানহা জানান, সকালবেলা কলেজে যাওয়ার সময় মাকে ঘরে শুয়ে থাকতে দেখেন। যাওয়ার আগে মায়ের কাছে টাকা চাইলে ২০০ টাকা দেন।
তিনি আরও বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজ থেকে বাড়িতে ফিরে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের চাচাতো বোনের ঘরে ওষুধ দিতে যাই। পরে ফিরে এসে দেখি দরজা খোলা। ঘরে ঢুকে টয়লেটের ভেতর থেকে শব্দ পাই। সেখানে গিয়ে দেখি মায়ের গলা কাটা, রক্ত ঝরছে। তখন আমি চিৎকার করে সবাইকে ডাক দিই। পরে বড় ভাই নুর হোসেন রনিকে খবর পাঠাই। মাকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে নুর হোসেন রনি জানান, সকালে আমি রুস্তমপুর বাজারে যাই। দুপুরে ছোট বোন ফোন করে জানায়, মাকে কে বা কারা গলাকেটে আহত করেছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মা আগেই মারা গেছেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোর্শেদ আখন জানান, গলা কাটা অবস্থায় এক নারীকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। হাসপাতাল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আআ