ধর্ষণ চেষ্টা মামলা না নেওয়ায় গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশ

গাইবান্ধা সদর থানায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। পরে লজ্জা ও অপমানে

2026-02-26T19:09:00+00:00
2026-02-26T19:09:00+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ধর্ষণ চেষ্টা মামলা না নেওয়ায় গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম 
লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন নুরুন নাহার বেগম। ছবি : সময়ের আলো
গাইবান্ধা সদর থানায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। পরে লজ্জা ও অপমানে তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের উজির ধরনীবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা নুরুন নাহার বেগম। এ সময় তার স্বামী আব্দুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে নুরুন নাহার বলেন, তিনি একই গ্রামের এএইচএম জিয়াউর রহমান খানের বাড়িঘর ও জমিজমা দেখাশোনা করতেন। জিয়াউর রহমান খানের সঙ্গে গ্রামের কয়েকজনের জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। জমির মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগে থানায় একটি মামলা হলে তিনি সেই মামলার সাক্ষী হন। এরপর বিরোধের জেরে তাকে দিয়ে জিয়াউর রহমান খানকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তরা তাকে ৫০ হাজার টাকার প্রস্তাব দেন। পরদিন তার শাশুড়িকেও একই প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তার বাড়িতে ঢুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বাধা দিলে তাকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি জানান, তার চিৎকারে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। 

এরপর কবির খান পলাশ, স্বচ্ছ মিয়া, ইমতিয়াজ খান রওনক, আব্দুস সাত্তার, কেয়া বেগমসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে সদর থানায় যান।

তবে তার দাবি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ গ্রহণ না করে উল্টো ‘মীমাংসা করে নিতে’ বলেন। 

এতে অপমানিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি বিষপান করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুন নাহার বলেন, আমি ন্যায়বিচার চাই। আমার অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার অভিযোগ ও মামলা গ্রহণে গড়িমসি হলে ভুক্তভোগীদের আইনি ও মানসিক সহায়তা জরুরি। অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বসহকারে গ্রহণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।

ভুক্তভোগী ও তার পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   গাইবান্ধা  ধর্ষণ  গৃহবধূ  অপমান  আত্মহত্যা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: