চাঁদপুরের মতলব উত্তরে চাঞ্চল্যকর শাকিলা আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় মতলব উত্তর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব এসব তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মতলব উত্তরের নন্দলালপুর শিবপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে শাকিলা আক্তারের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শাকিলা আক্তার উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের রঙ্গুখারকান্দি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি ক্লিনিকে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে বাড়িতে আসেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় তার পিতার এজাহারের ভিত্তিতে হত্যা মামলা করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, জেলা পুলিশের বিশেষ টিম টানা তিন দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল থেকে প্রধান আসামি বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব জানান, প্রায় দুই বছর আগে ছেংগারচর এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরির সময় বিল্লালের সঙ্গে শাকিলার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় চার মাস আগে তারা ঢাকার ডেমরা এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। যদিও তাদের বিয়ে নিবন্ধিত ছিল না। বিয়ে নিবন্ধন ও প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পুলিশের দাবি, ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ডেমরার ওই বাসায় শাকিলা ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিল্লাল মরদেহ গাড়িতে করে মতলব উত্তরের নন্দলালপুর শিবপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ফেলে পালিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ শেষে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সময়ের আলো/আআ