চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও প্রভাবশালী একটি চক্র উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে দিন-রাত বালু তুলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিন্ডিকেটে পরিবর্তন এলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি—এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।
এ প্রেক্ষাপটে গতকাল সারাদিন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার কুমিরা থেকে গুলিয়াখালী পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৯টি বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার জব্দ করা হয় এবং বাল্কহেডে থাকা ১৩ জনকে আটক করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন কচি এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ড্রেজারগুলো জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাইছড়ি, বার আউলিয়া, জোড়আমতল, কুমিরা, আকিলপুর, আলোকদিয়া, বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুন্ড, সৈয়দপুর ও গুলিয়াখালী সৈকত সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উপকূল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন চলছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত ট্রাকে করে এসব বালু বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে উপকূলীয় পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশ সচেতন মহল।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেল এলাকা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে ইতোমধ্যে মানববন্ধন করেছেন কুমিরা ইউনিয়নের আলেকদিয়া এলাকার বাসিন্দারা।
কয়েক মাস আগে এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম-এর কাছে স্মারকলিপিও দেন। তারা অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী ও সাগর তীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং স্থানীয় জেলেদের জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে এবং কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করেই আইন প্রয়োগ করা হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সাময়িক অভিযানের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে উপকূল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সময়ের আলো/জোই