সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সবাইকে উপোস থাকতে হয় পবিত্র রমজান মাসে। তবে কেউ সেহরিতে ভালো কিছু খেতে পারেন, কেউ পান্তা ভাত খেয়ে উপোস থাকেন। কারও ইফতারিতে বাহারি আয়োজন থাকে, কেউ ইফতার করেন এক ঢোক পানি গিলে। অথচ এটা কাম্য নয়। সামর্থ্যবানদের উচিত অসহায়-গরিবদের পাশে দাঁড়ানো। সাধ্যমতো তাদের সহযোগিতা করা, ইফতার ও সেহরিতে ভালো কিছু খাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
গরিবের প্রতি সমবেদনা, তাদের পাশে দাঁড়ানো, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যদিও কেবল রমজান মাসের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, তবু রহমতের মাসে সবাই যেন সুন্দরভাবে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে, সেহরি ও ইফতারে তৃপ্তিসহ খেতে পারে, সে জন্য সাধ্যমতো দান করা চাই। প্রয়োজনে ইফতার-সেহরি আইটেম কিনে দেওয়া যেতে পারে।
আল্লাহর রাসুল (সা.) রমজান মাস এলে যেমন কুরআন তেলাওয়াত করতেন বেশি বেশি, তেমনি তিনি প্রচুর দানও করতেন। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক দানশীল। রমজানে তিনি সর্বাধিক দানশীল হতেন। রমজানে জিবরাইল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তার সঙ্গে কুরআন পাঠ করতেন। জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকালীন রাসুল (সা.) হতেন মুক্ত বায়ুর তুলনায় অধিক কল্যাণময় দানশীল। (বুখারি : ৩২২০)
অনেক শ্রমিক-মেহনতি মানুষ আছে, রমজান মাসে তারা কায়িক শ্রম দেওয়া সত্ত্বেও রোজা ভাঙে না। তাদের প্রতি বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। অনেকে এমন আছে, সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারে তেমন কিছু জোটে না, কিংবা সেহরিতে তেমন খাবার মিলে না, তাদেরকে খুঁজে খুঁজে সহযোগিতা করার আমল রমজানে করা যেতে পারে। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো যেতে পারে। হাদিসে এসেছে ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের পার্থিব কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার কষ্ট দূর করে দেবেন’ (মুসলিম : হাদিস ৭০২৮)। রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে নিজের অধীনস্থদের কাজের চাপ কমিয়ে দেয়, আল্লাহ তায়ালা তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।’ (ইবনে খুজাইমা : ১৮৮৭)
তা ছাড়া রোজাদারকে ইফতার করালে বিশেষ সওয়াবের কথাও বলা হয়েছে হাদিসে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, এর দ্বারা তার গুনাহ ক্ষমা করা হবে এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। রোজাদারের সমপরিমাণ নেকি তাকে দান করা হবে, রোজাদারের প্রাপ্য নেকি থেকে একটুও না কমিয়ে। সাহাবাগণ আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে সবার তো রোজাদারকে ইফতার করানোর মতো ক্ষমতা নেই! রাসুল (সা.) বললেন, যে কেউ কোনো রোজাদারকে একটি মাত্র খেজুর দিয়ে বা পানি পান করিয়ে অথবা এক ঢোক দুধ দিয়ে ইফতার করাবে, মহান আল্লাহ তাকে এই সওয়াব দান করবেন। আর যে কোনো রোজাদারকে পরিতৃপ্ত করে খাওয়াবে, মহান আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন আমার হাউস থেকে এমন শরবত পান করাবেন যে, জান্নাতে প্রবেশের আগে তার আর পিপাসা লাগবে না।’ (ইবনে খুজাইমা : ১৮৮৭; বায়হাকি, শুআবুল ইমান : ৩৩৩৬; আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব : ১৭৫৩)
লেখক : প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক