গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া মধ্যপাড়া এলাকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক আমেরিকান নাগরিকের ওপর হামলা ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আকরাম হোসেন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
রোববার (১ মার্চ) গাজীপুর মেট্রোপলিটন বাসন থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. আকরাম একজন আমেরিকান পাসপোর্টধারী। পারিবারিক প্রয়োজনে বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে গ্রামের বাড়ি ভোগড়া অবস্থান করছেন।
আর সাধারণ ডায়েরিতে বাসন থানা বিএনপির জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আজহারুল ইসলাম আজাদ এবং আজাদের সহযোগী ফাইজুল ইসলাম ও রোকনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন ওই প্রবাসী।
ভুক্তভোগী আকরাম হোসেন বলেন, ভোগড়া এলাকায় তার আবাসন ভবন এবং কিছু দোকান রয়েছে। দোকানগুলি ভাড়া দেওয়া। এসব স্থাপনার জন্য কয়েক বছর আগে তারা কয়েকজন ব্যক্তিগত উদ্যোগে ট্রান্সফরমার কিনে তার মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ নিয়েছেন।
তবে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তার দোকানের পাশে নবনির্মিত টিনশেড ভাড়া বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে যান আজহারুল ইসলাম ওরফে আজাদ।
তারা আকরামদের ট্রান্সফরমার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে আজাদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে স্থানীয় আজহারুল ইসলাম আজাদ, ফাইজুল ইসলাম ও রোকন তার ওপর চড়াও হয়।
আকরাম আরও বলেন, তারা দফায় দফায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং আমার উপর হামলা করে। পরে পাশে থাকা আমার দোকানগুলো একে একে সাটার টেনে বন্ধ করে দিতে থাকে এবং বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা দিলে খুন- জখমের হুমকি দিতে থাকে। এসময় উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এসে হামলাকারীদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় আকরাম হোসেন বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমতাবস্থায় তার ও পরিবার সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয়রা জানান, বিএনপির নেতা বাবা গিয়াস উদ্দিনের প্রভাব খাটিয়ে তার ছেলে আজাদ নানা অপকর্ম করে থাকে। এলাকায় কেউ নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে কিংবা রাস্তার পাশে ইট, বালি নামালে বিএনপির ওই নেতার ছেলেকে চাঁদা দিতে হয়, কিংবা বাড়ি নির্মাণের পুরো কাজ দেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
এমনকি তাদের কাজে বাধা দিলে বাধাদানকারীকে ‘আওয়ামী লীগের লোকজন’ মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানতে চাইলে হামলার কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আজাদ। তবে হামলার ঘটনার ভিডিওতে তার ছবি পাওয়া গেছে জানালে বিষয়টি নিয়ে কোনো উত্তর দিতে রাজি হয়নি তিনি।
ওসি মো. হারুন অর রশিদ জানান, এ ব্যাপারে সাধারণ ভিকটিম সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পরবর্তী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এফআর