মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার আবহে কুয়েতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিমানটির ধরন নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রাথমিকভাবে একে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বলে ধারণা করা হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও দেখে কেউ কেউ এটিকে এফ-১৬ বলেও মনে করছেন।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই ও ইউকে ডিফেন্স জার্নাল সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কুয়েতে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েত কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, বিমানের দুই পাইলটই নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও তাদের জাতীয়তা- আমেরিকান না ইসরায়েলি তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ঘটনাকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে মার্কিন বিমানবাহিনীর দুটি বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান- এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন এবং এফ-১৫ ঈগল।
আরও পড়ুন
এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনএকক ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই বহুমুখী যুদ্ধবিমান আকাশযুদ্ধ ও স্থল হামলা- উভয় ক্ষেত্রেই কার্যকর। এর ফ্লাই-বাই-ওয়্যার কন্ট্রোল সিস্টেম ও বাবল ক্যানোপি পাইলটকে উন্নত নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তৃত দৃশ্যমানতা দেয়। ঘণ্টায় প্রায় ২,৪১৪ কিলোমিটার গতিবেগসম্পন্ন এ বিমান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফাইটার জেট।
এফ-১৫ ঈগলদুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এফ-১৫ মূলত আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য তৈরি। এটি অধিক উচ্চতায় উঠতে পারে এবং এফ-১৬-এর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ অস্ত্র বহনে সক্ষম। ঘণ্টায় প্রায় ২,৬৫৫ কিলোমিটার গতিবেগসম্পন্ন এই জেট আকাশযুদ্ধে সাফল্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
দামের ক্ষেত্রেও পার্থক্য স্পষ্ট। এফ-১৬ এর আধুনিক ‘ব্লক ৭০/৭২’ সংস্করণের ইউনিটপ্রতি মূল্য প্রায় ৬৩-৭০ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে এফ-১৫ এর সর্বাধুনিক ‘এফ-১৫ইএক্স ঈগল ২’ সংস্করণের দাম ৯৪-৯৭ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাডার প্রযুক্তি, ইঞ্জিন শক্তি, অস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং কৌশলগত উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণেই এই দুই মডেলের বৈশিষ্ট্য ও মূল্যে বড় পার্থক্য দেখা যায়।
এএডি/