স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর জন্য অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে দায়ী করেছেন ইকরার পরিবার।
একমাত্র মেয়ের হারিয়ে শোকে কাতর ইকবার বাবা কবির হায়াত খান বলেন, সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক আলভী ও তার মায়ের। আলভী একটা অসভ্য ছেলে। সে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আগে জানতাম না, মনে করতাম সে ভালো। আমার মেয়েও সংসার টেকানোর জন্য আমাদের কাছে কখনো কিছু প্রকাশ করেনি।
কবির হায়াত বলেন, আলভী ও তার মায়ের প্ররোচনাতেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। ইকরার শিক্ষাজীবনের আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ইকরা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল।
তিনি বলেন, আমার মেয়ে যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে, আলভী তখন একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আমি তখন বলেছিলাম, আলভীর কাছে মেয়েকে বিয়ে দেব না। আমি আলভীর মাকে বলেছিলাম, আপা আমি আপনার ছেলের সঙ্গে আমার মেয়েকে বিয়ে দেব না। আমার মেয়েকে আপনারা ভিক্ষা দেন। আলভীর মা মানেনি।
কবির হায়াত খানের দাবি, আলভী ও তার মা যোগসাজশ করে অল্পবয়সী মেয়েটাকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করায়। ইকরা তখন মাত্র অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। শুরুতে বিয়ে মেনে না নিলেও একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরে মেনে নিয়েছিলাম। আমি চাইছিলাম সংসার করুক। কিন্তু তা তো আর হলো না।
তিনি বলেন, আমার মেয়েটা দারুণ স্টুডেন্ট ছিল। ওদের জন্য ইকরার ক্যারিয়ার, লেখাপড়া সব শেষ হয়ে গেল। আমি ভিক্ষা চেয়েছিলাম ওদের কাছে, কিন্তু ওরা দেয় নাই। ইকরার আত্মহত্যার পেছনের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে আলভীর একটি ফেসবুক পোস্টকে সামনে এনেছেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আলভী কেন আরেকটা মেয়ে নিয়ে আমার মেয়ের সামনে নেপাল থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে? এমনিতেই আমার মেয়ে আমাদের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে করত। আলভীকে নিয়ে ইকরার অনেক গর্ব ছিল। যখন দেখল আলভী এমন করতেছে ক্ষোভে-দুঃখে আমার মেয়ে হয়তো সুইসাইড করছে।
এদিকে আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। রোববার ঢাকার পল্লবী থানায় এই মামলা করা হয়। মামলার বাদী ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ।
মামলার অভিযোগে জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানা তানভীর আহমেদ আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও দুই বছর ধরে অবহেলা এবং নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান বলেন, মামলা হয়েছে, তদন্ত চলমান। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এজাহারের একটি কপি বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আসামি যেহেতু দেশের বাইরে আছেন, যাতে দেশে আসার পর দ্রুত গ্রেফতার করা যায়।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী ও ইকরা। তাদের সংসারে রিজিক নামের এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
ইকরার মামা তানভীর আহমেদ জানালেন, ইকরার মরদেহ ময়মনসিংহের ভালুকার ধীতপুর ইউনিয়নে পারিবারিক কবরস্থানে বাদ আসর সমাহিত করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আআ