আক্রমণভাগ কিংবা মাঝমাঠের তারকাদের নিষ্প্রভতার দিনে জ্বলে উঠলেন রক্ষণভাগের সেনানীরা। ফরোয়ার্ডরা যখন ফিনিশিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া করছিলেন, তখন দলের ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলেন উইলিয়াম সালিবা ও ইউরিয়েন টিম্বার। দুই ডিফেন্ডারের গোলে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী চেলসিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে গানাররা। এই জয়ে ২৯ ম্যাচে ১৯ জয় ও ৭ ড্রয়ে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান দলটির। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে এখন ৫ পয়েন্টে এগিয়ে আর্সেনাল, যদিও সিটিজেনরা এক ম্যাচ কম খেলেছে। অন্যদিকে ২৮ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ষষ্ঠ স্থানেই থমকে আছে চেলসি।
পুরো ম্যাচজুড়েই আর্সেনালের আক্রমণের মূল অস্ত্র ছিল সেট-পিস। ম্যাচের ২১ মিনিটে কর্নার থেকে লিড নেয় স্বাগতিকরা। গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াইসের পাস থেকে গোলমুখে বল পান সালিবা। সেই বল চেলসি ডিফেন্ডার মামাদুর গায়ে লেগে জালে জড়ালে উল্লাসে ফেটে পড়ে এমিরেটস। চলতি আসরে এটি ছিল কর্নার থেকে আর্সেনালের নবম গোল।
তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ভাগ্যের ফেরে গোল হজম করতে হয় স্বাগতিকদের। গোলরক্ষক ডেভিড রায়া অসাধারণ দক্ষতায় একটি নিশ্চিত গোল ঠেকালেও ফিরতি কর্নারে পিয়েরো ইনকাপিয়ের আত্মঘাতী গোল করে বসলে ১-১ সমতায় ফেরে চেলসি। বিরতির পর ৬৬ মিনিটে আবারও সেট-পিসের জাদু দেখায় আর্সেনাল। ডেক্লান রাইসের নিখুঁত কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে দলকে দ্বিতীয়বার লিড এনে দেন ডাচ ডিফেন্ডার ইউরিয়েন টিম্বার।
ম্যাচের ৭০ মিনিটে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন চেলসির পর্তুগিজ উইঙ্গার পেদ্রো নেতো। একজন কম নিয়ে খেললেও ব্লুজরা হাল ছাড়েনি। যোগ করা সময়ে আলেহান্দ্রো গার্নাচোর একটি বাঁকানো শট নিশ্চিত গোলের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় তা রুখে দিয়ে আর্সেনালের জয় নিশ্চিত করেন গোলরক্ষক রায়া।
টানা দুই ড্রয়ের পর এই পরাজয় চেলসির চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার স্বপ্নকে কিছুটা হলেও ধাক্কা দিল। শীর্ষ চারের লড়াই এখন আরও জমে উঠেছে। আর্সেনাল ও সিটির পেছনে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও অ্যাস্টন ভিল
সময়ের আলো/আআ