ইরান দাবি করেছে, তাদের সাম্প্রতিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫৬০ জন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তারা কাতারে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় দফতর ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, অধিকৃত ভূখণ্ডজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন আর থামবে না এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত থাকবে। বসতি স্থাপনকারীদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, এক ভিডিও বার্তায় কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অগ্রগতি তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত আগ্রাসন এবং ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর এ অভিযান শুরু হয়েছে বলে ইরান দাবি করে।
জোলফাঘারি জানান, অভিযানের দশম ধাপে খেইবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার সদর দপ্তরে। পাশাপাশি হাইফার সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা এবং পূর্ব আল-কুদসের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানো হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পরিধি আরও বাড়ানো হবে এবং ইসরায়েলে সতর্কতা সাইরেন বন্ধ হবে না।
তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসবাসকারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দ্রুত এলাকা ত্যাগের আহ্বান জানান এবং সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দিকে। এতে জাহাজটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত আলি আল-সালেম ঘাঁটি অচল হয়ে পড়েছে এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন-সম্পর্কিত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিতে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং উপসাগরীয় আরব দেশ ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে বিমান হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়।
ইরানের হিসাব অনুযায়ী, এসব প্রতিশোধমূলক হামলায় অন্তত ৫৬০ মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন।
ইরান আরও দাবি করে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ও তেল আবিব বিনা উসকানিতে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে, যাতে অন্তত ৫৫৫ ইরানি নাগরিক নিহত হন। এর জবাব হিসেবেই তারা ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ড ও বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
/ইউএমএইচ