চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় কমবেশি মানুষ কৃষিনির্ভর। তবে পুরো উপজেলাজুড়েই এ বছর কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকেছেন। সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এ উপজেলার কৃষির চিত্র।
কৃষকরা বলছেন, সূর্যমুখী চাষে কম খরচে লাভের পরিমাণ বেশি। এছাড়া এখান থেকে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ হওয়ায় এই ফসল আবাদে আগ্রহ বাড়ছে। ফলে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি সূর্যমুখী এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
রাউজান উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলাজুড়ে ১৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন হলুদ সূর্যমুখীর সমারোহ যা একদিকে দৃষ্টিনন্দন, অন্যদিকে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সূর্যমুখী ফুল থেকে ভালো পরিমাণে তেল উৎপাদনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষক রঞ্জিত চৌধুরী জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি। এ বছর তিনি ১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন এবং ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে সূর্যমুখী তেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
তেল ছাড়াও সূর্যমুখীর বীজ থেকে উৎপাদিত খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় বলেও জানান তিনি।
কৃষকদের ভাষ্য, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী ভালো ফলন দেয়। স্বল্প সেচ ও কম পরিচর্যায় অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব হওয়ায় এটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির বলেন, এ বছর উপজেলাজুড়ে প্রায় ১৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ, সার ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আগামীতে রাউজান উপজেলায় সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণে আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আরবিএন