সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় দাহরান শহরে অত্যন্ত জরুরি ও ‘আসন্ন’ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার আশঙ্কা জানিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সৌদিতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক পোস্টের মাধ্যমে এই জরুরি বার্তা প্রদান করে।
মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাহরান শহরে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের হামলা হতে পারে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দাহরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কেউ বাইরে বের হবেন না। একই সাথে নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়িঘরে অবস্থান করতে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনরায় যাচাই করতে এবং পরবর্তী সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সজাগ থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। দাহরানে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের কর্মীরা ইতিমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন এবং সাধারণ নাগরিকদের বর্তমানে কনস্যুলেটে না আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই সতর্কতা জারির ঠিক আগেই সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে রাজধানী রিয়াদে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এর আগে দূতাবাসের কাছাকাছি আরও দুটি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনা ঘটে।
ভৌগোলিকভাবে দাহরান শহরটি ইরানের বেশ কাছাকাছি অবস্থিত এবং ইরানের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে এই শহরে থাকা মার্কিন কনস্যুলেট লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব হামলায় হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই রণক্ষেত্রে সংঘাতের আগুন এখন পুরো অঞ্চলে দাউদাউ করে জ্বলছে। একদিকে যখন খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড ‘স্বাধীনভাবে’ প্রতিবেশি দেশগুলোতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘মূল আক্রমণের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের বিশাল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে ইরাকের বৃহত্তম তেলক্ষেত্র রুমেইলাসহ কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। কাতারের আকাশে ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা এবং ওমান উপকূলে তেলের ট্যাংকারে হামলার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি এক ভয়াবহ ও অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সময়ের আলো/আরবিএন