তারুণ্যের দীপ্তিতে আলোকিত বাংলাদেশ

মিজানুর রহমান মিজান

বিবিধ

বাংলাদেশ তরুণ প্রাণের অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ। এ দেশের আকাশে এখনও ভেসে বেড়ায় অগণিত স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও প্রতিশ্রুতির রংধনু। এই সম্ভাবনার

2026-03-04T06:04:29+00:00
2026-03-04T06:04:29+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
বিবিধ
তারুণ্যের দীপ্তিতে আলোকিত বাংলাদেশ
মিজানুর রহমান মিজান
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৪ এএম   (ভিজিট : ১৯১)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশ তরুণ প্রাণের অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ। এ দেশের আকাশে এখনও ভেসে বেড়ায় অগণিত স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও প্রতিশ্রুতির রংধনু। এই সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তরুণ প্রজন্ম যাদের রক্তে আছে আগুনের উষ্ণতা, মনে আছে পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা, চোখে আছে এক উজ্জ্বল আগামীর প্রতিচ্ছবি। 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, একটি জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার মানবসম্পদ। আর সেই মানবসম্পদের সবচেয়ে কর্মক্ষম, উদ্যমী ও উদ্ভাবনশীল অংশ হলো তরুণ সমাজ। এই তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠতে পারে নতুন বাংলাদেশ সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও আত্মনির্ভর এক রাষ্ট্র।

‘তরুণদের নেতৃত্ব আগামীর বাংলাদেশ’ এই বাক্যটি শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি এক বিশ্বাস, এক দিকনির্দেশনা, এক প্রাণের আহ্বান। 

ইতিহাস সাক্ষী, পরিবর্তনের প্রতিটি অধ্যায়ে তরুণরাই ছিল অগ্রদূত। তারা আন্দোলনের মশাল হাতে ভবিষ্যৎ গড়ার পথ দেখিয়েছে, স্বাধীনতা এনেছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, সমাজে নতুন চিন্তার সূচনা করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে তরুণদের পদচিহ্ন অম্লান। তাই আগামী বাংলাদেশও তাদের হাতেই নির্মিত হবে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাংলাদেশের জন্মগাথা মূলত তরুণদের সংগ্রাম, ত্যাগ ও আদর্শের ইতিহাস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যারা
মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে প্রাণ দিয়েছিলেন, তারা ছিলেন তরুণ ছাত্র। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার তাদের বয়স তখন বিশের কোঠায়, কিন্তু সাহস ছিল পাহাড়সম। তাদের রক্তে লেখা হয়েছিল বাংলাভাষার অমর জয়গান।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান তরুণ ছাত্র, শ্রমিক ও কৃষকের ঐক্যবদ্ধ বিদ্রোহ। তাদের হাত ধরেই পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল সমগ্র বাঙালি জাতি। সেই তারুণ্যের তেজ স্বাধীনতার আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য। মুক্তিযোদ্ধাদের বড় অংশই ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া ছাত্র যারা বই ছেড়ে হাতে নিয়েছিল অস্ত্র, জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছিল।

স্বাধীনতার পরও তরুণ নেতৃত্বের দীপ্তি থেমে থাকেনি। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তরুণ ছাত্রসমাজ আবারও অগ্রভাগে থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে এবং সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন, যেখানে তরুণরা আবারও প্রমাণ করেছে যে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তারা কখনো পিছপা হয় না। ন্যায্য দাবি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অধিকার এবং রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার দাবিতে লাখো তরুণের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের পরিবর্তনের নিয়ামকশক্তি আজও তারুণ্য।

বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশই তরুণ ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি। এটি এক বিশাল জনমিতিক সুবিধা অর্থাৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ এখন তার তরুণ জনগোষ্ঠী। তরুণরা আজ শুধু শ্রমজীবী নয়, বরং তারা উদ্ভাবনী শক্তির প্রতীক। আগামীর ‘আধুনিক বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে তরুণদের অবদান অপরিসীম। আইটি খাতে স্টার্টআপ সংস্কৃতি, ই-কমার্স, অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, গেম ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপস নির্মাণ এসব ক্ষেত্রের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে রয়েছে তরুণ নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতা।

আজ প্রায় ৭ লাখ তরুণ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরি কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় তরুণরা এগিয়ে এসেছে অগ্রণী ভূমিকায়। তারা শুধু চাকরি খুঁজছে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। এই উদ্যোক্তা মনোভাবই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতির ভিতকে মজবুত করছে।

তরুণ নেতৃত্ব শুধু বয়সে তরুণ নয়; চিন্তায়, দৃষ্টিভঙ্গিতে ও উদ্যোগে তরুণ। তাদের মধ্যে যে গুণাবলি থাকে, তাই তাদের নেতৃত্বকে সফল করে তোলে প্রথমত উদ্যম ও সাহস। তরুণরা ভয় পায় না, ঝুঁকি নিতে জানে, নতুন পথে হাঁটতে জানে। দ্বিতীয়ত দূরদৃষ্টি তারা ভবিষ্যৎ বুঝতে পারে এবং পরিবর্তনের দিকনির্দেশ করতে সক্ষম। 

তৃতীয়ত প্রযুক্তি ও জ্ঞানের দক্ষতা তারা তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুত শেখে ও প্রয়োগে পারদর্শী। চতুর্থত নৈতিকতা ও মানবিক চেতনা আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে তারা সমাজসচেতন, পরিবেশবান্ধব ও ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধ।

নেতৃত্ব মানে কেবল শাসন নয়; নেতৃত্ব মানে অনুপ্রেরণা জাগানো, সমাজকে এগিয়ে নেওয়া। তরুণ নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো পরিবর্তনের মনোভাব। তারা প্রচলিত নিয়মে আবদ্ধ নয়, বরং জানে পরিবর্তন ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। 

বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব তরুণদেরই নিতে হবে। শিক্ষায় গুণগত উন্নয়ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন, পরিবেশ রক্ষা, নারী অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এসব ক্ষেত্রেই তরুণদের অংশগ্রহণ আশাব্যঞ্জক। 


বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, তরুণ নেতারাই রাষ্ট্রকে নতুন পথে নিয়ে গেছেন। ফিনল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন, যিনি মাত্র ৩৪ বছর বয়সে বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন; কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, যিনি তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ; নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন, যিনি মানবিক নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার মাধ্যমে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক, যিনি মাত্র ৩৬ বছর বয়সে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত হয়ে তরুণ নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে যে বয়স নয়; বরং দৃষ্টিভঙ্গি, দক্ষতা ও আদর্শই নেতৃত্বের প্রকৃত ভিত্তি।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের পথেও আছে নানাবিধ বাধা। সমাজে এখনও তরুণ নেতৃত্বকে পুরোপুরি স্বীকৃতি ও সুযোগ দেওয়া হয় না। রাজনীতিতে প্রবীণ প্রজন্মের আধিপত্যে নতুন চিন্তাধারা অনেক সময় স্থান পায় না। শিক্ষাব্যবস্থায় নেতৃত্বগুণ বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশও অনুপস্থিত। অনেকে বেকারত্ব, হতাশা ও সামাজিক বিভাজনের শিকার হচ্ছে। 

নৈতিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি, সামাজিক অনৈক্য ও অনলাইন বিভ্রান্তি তরুণদের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি ও মূল্যবোধের সংকট। সমাজে যখন সততা ও আদর্শের পরিবর্তে সুযোগসন্ধানী প্রবণতা বাড়ে, তখন নেতৃত্বের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নেতৃত্ব বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক দৃঢ়তাও জরুরি।

শিক্ষা হলো নেতৃত্বের মূলভিত্তি। একসময় শিক্ষা ছিল কেবল জ্ঞানার্জনের মাধ্যম; এখন এটি পরিবর্তনের হাতিয়ার। তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে তারা কেবল তথ্য জানে না, বরং চিন্তা করতে শেখে, প্রশ্ন করতে শেখে, সমাধান বের করতে শেখে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্যোক্তা বিকাশের উদ্যোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় জোর দিতে হবে, যাতে তরুণরা বাস্তব দক্ষতায় পারদর্শী হয়ে ওঠে।

বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি, ব্লকচেইন এসব প্রযুক্তিই আগামী কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশ যদি এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চায়, তবে প্রযুক্তিতে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও মানবিক তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলাই হবে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। 

তরুণ নেতৃত্বের লক্ষ্য শুধু উন্নয়ন নয়; সামাজিক ন্যায়, মানবিকতা ও পরিবেশসচেতনতা প্রতিষ্ঠাও তাদের দায়িত্ব। কারণ উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন তা ন্যায়বিচার ও মানবতার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশের তরুণরা ইতিমধ্যেই দারিদ্র্য, বৈষম্য, নারী নির্যাতন ও পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলছে। 

রাজনীতি হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। যদি তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে থাকে, তা হলে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়। তাই তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ শুধু প্রয়োজনীয় নয়, অপরিহার্য। তবে তরুণ রাজনীতি মানে ক্ষমতার রাজনীতি নয় এটি হবে আদর্শ, সততা ও সেবার রাজনীতি। তাদের উচিত দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। কারণ নৈতিকতা ছাড়া নেতৃত্ব টেকে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে নেতারা নৈতিকভাবে দৃঢ় ছিলেন, তারাই সমাজে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন।

তরুণ নেতৃত্বকে তাই প্রথমেই নিজেদের মধ্যে সততা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে। কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা নয়, বাস্তবে কাজ করাই নেতৃত্বের আসল রূপ। আজকের তরুণরা যদি নৈতিক চেতনা ও কর্মনিষ্ঠা নিয়ে এগিয়ে যায়, তবে তারা কেবল বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্বকেও আলোকিত করতে পারবে। তরুণরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের চিন্তা, শ্রম, আদর্শ ও নেতৃত্বেই নিহিত বাংলাদেশের আগামী দিনের গৌরব। ইতিহাস যেমন সাক্ষ্য দেয়, তরুণরা দেশ বদলাতে পারে; ভবিষ্যৎও বলবে তরুণরাই দেশ গড়তে সক্ষম। 

তরুণদের নেতৃত্ব মানে শুধু নতুন মুখ নয়, বরং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যেখানে থাকবে পরিবর্তনের সাহস, মানবতার মমতা ও অগ্রগতির দৃষ্টি।

এই স্বপ্নদ্রষ্টা তরুণদের হাতেই অর্পিত হোক বাংলাদেশের আগামীর দায়িত্ব। তাদের নেতৃত্বে গড়ে উঠুক এক শান্তিময়, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ যেখানে প্রতিটি মানুষ গর্বভরে বলতে পারবে, ‘আমি এক তরুণের বাংলাদেশে বাস করি’।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সময়ের আলো/এআর



  বিষয়:   তারুণ্য  আলোকিত  বাংলাদেশ 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: