গোপালগঞ্জে মধুমতীর চরে পর্যটকদের ঢল

মাসুদুর রহমান, গোপালগঞ্জ

সারাদেশ

গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা একটি বিশাল চর এখন স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া

2026-03-04T11:16:40+00:00
2026-03-04T11:16:40+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
গোপালগঞ্জে মধুমতীর চরে পর্যটকদের ঢল
মাসুদুর রহমান, গোপালগঞ্জ
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৬ এএম 
মধুমতী নদীর মাঝখানে মিনি কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল। ছবি : সময়ের আলো
গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা একটি বিশাল চর এখন স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর কল্যাণে অল্প সময়েই জায়গাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন গোপালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষ ভিড় করছেন এখানে।  বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো।

মধুমতী নদীর পূর্বপাড়ে গোপালগঞ্জ এবং পশ্চিমপাড়ে নড়াইল জেলা। নদীর মাঝ বরাবর প্রায় ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪০ মিটার প্রস্থের এই চরটি জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে কখনো জেগে ওঠে, কখনো পানিতে ডুবে যায়। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চরটির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে জালালাবাদ ইউনিয়নের চর মাটলা খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে এ চরের অবস্থান। নদীর স্বচ্ছ জলরাশি, বিস্তৃত বালুচর, খোলা আকাশ আর পাশের সবুজ ক্ষেত মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। দর্শনার্থীরা চরে ঘুরে বেড়ানো, খেলাধুলা ও নদীর জলে গা ভিজিয়ে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। যারা দূরের সমুদ্রসৈকতে যেতে পারেন না, তাদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে স্বল্প খরচে বিনোদনের আকর্ষণীয় গন্তব্য।


দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ায় স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকানপাট। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করে অনেকে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ট্রলারচালকরাও জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় যাতায়াত সেবা দিয়ে ভালো আয় করছেন। মোটরসাইকেল রাখার জন্য নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। স্থানীয় যুবকেরা স্বেচ্ছাশ্রমে নিরাপত্তা ও সহায়তা দিচ্ছেন। অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়াতে একটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বাগেরহাটের চিতলমারী থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, ফেসবুকে ভিডিও দেখে এখানে এসেছেন এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আনন্দ পেয়েছেন। অন্যদিকে নড়াইলের এক সরকারি কর্মকর্তা পরিবারসহ ঘুরে এসে স্থানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন।


স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছর ছোট আকারে চরটি দেখা গেলেও এ বছর তা কয়েকগুণ বড় হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রথম ভিডিও পোস্টের পরই জায়গাটি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসতে শুরু করেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী মাহমুদ উল্লাহ বলেন, এখানে আসার রাস্তার অবস্থা ভালো। তবে, শেষাংশে সামান্য একটু রাস্তার অবস্থা খারাপ। যদিও ওই অংশের কাজের টেন্ডার হয়েছে। দ্রুতই কাজ শেষ হবে।
  
এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৌশিক আহম্মেদ বলেন, আমরা কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি গোপালগঞ্জসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলার মানুষ এটিকে বেশ আনন্দের সঙ্গে নিয়েছেন। আনন্দ উপভোগ করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসছে। এটি তাদের কাছে কক্সবাজারের একটা অনুভূতি পাওয়ার মতো অবস্থা রয়েছে। তারা নদীর মাঝখানে যাচ্ছে নৌকায় করে। সেখানে গোসল করছে। যারা কক্সবাজারে যেতে পারে না তারা এখানে কক্সবাজারের স্বাদটা উপভোগ করার চেষ্টা করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জায়গাটি ভিজিট করলাম। এখানে যারা পর্যটকরা আসছে, যেহেতু এটি একটি নদী, এখানে আসা অনেকে সাঁতার জানেন না। তাদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আমরা উদ্যোগ নিবো। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এই জায়গাটিকে সুরক্ষিত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।  আর যে সকল ভ্রমণপিপাসু মানুষ এখানে আসছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সচেষ্ট থাকবো।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   গোপালগঞ্জ মধুমতী নদী  চর  পর্যটক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: