ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এখনো মূলত আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল। তবে পরিস্থিতি কি সেখানেই থামবে, নাকি স্থল সেনা মোতায়েনের দিকে যাবে ওয়াশিংটন- এ প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে ইরানে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল- ইরানে কি মার্কিন সেনা মোতায়েন হতে পারে? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘কখনোই না বলবেন না’ এবং প্রয়োজন হলে তার প্রশাসন ‘যা দরকার সবই করবে’।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা ও নৌ শক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। কিন্তু সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবল আকাশ হামলার মাধ্যমে কোনো দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা কঠিন।
আরও পড়ুন
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার প্রিবল আল জাজিরাকে বলেন, একটি দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। কারণ, সেই দেশ চাইলে পুনরায় তা গড়ে তোলার সক্ষমতা রাখে। ইরান অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হয় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া অথবা সরকার পরিবর্তনের মতো বড় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, তবে স্থল সেনা ছাড়া তা কঠিন হবে। কিন্তু সেটিই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
প্রিবল ২০০৩ সালের ইরাকের যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, ইরান ভৌগোলিক আয়তন ও জনসংখ্যায় তৎকালীন ইরাকের তুলনায় কয়েক গুণ বড়। ইরাককে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ সময় বিপুল সেনা মোতায়েন রাখতে হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের মতো বড় ও জটিল রাষ্ট্রে স্থল অভিযান চালানো এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও কঠিন হবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যকে অনেকে কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ হিসেবে দেখছেন- যাতে তেহরান আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে স্থল অভিযানও অস্বাভাবিক নয়।
এএডি/