বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এশা গুপ্তা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার জেরে আবুধাবিতে আটকা পড়েছিলেন তিনি। এমন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কঠিন সময় পার করে ভারতে ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তিনি। ঘরে ফিরতে পেরে চোখেমুখে স্পষ্ট স্বস্তির ছাপ এশা গুপ্তার।
এ পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে যেসব ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন অভিনেত্রী, তার বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এশা গুপ্তা।
সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারি, আমি আবুধাবি বিমানবন্দরে ছিলাম। তখন দুপুর ১টা আর বিমানবন্দর বন্ধ ছিল। কেউ কিছুই বুঝতে পারছিল না। সর্বত্র বিশৃঙ্খলা। তারপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর আসতে শুরু করে, আর কেউ জানত না পরের মুহূর্তে আমাদের কী হবে। অপরিচিতরা একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, সবাই তাদের পরিবারকে ফোন করছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি চেক ইন করিনি, তাই হোটেলে ফিরে গেলাম। সেই রাতে বিমানবন্দর থেকে হোটেলে আসা অনেকেই আমাদের বলেছিল যে, বিমানবন্দরে সব যাত্রীর খাবারের জন্য যতটা সম্ভব নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। তারপর তাদের লাগেজ ফেরত দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর, যাত্রীদের লাইনে দাঁড় করানো হয়েছিল, তাদের লাগেজ এবং আবুধাবির হোটেলগুলোতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাদের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাসের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি হোটেল ম্যানেজমেন্টকে দেখেছি— তারা গতরাতের মতো একই পোশাক পরে ছিল, এখনো কাজ করছিল, সক্রিয় ছিল এবং সব কিছু দেখভাল করছিল। এমনকি তারা এমন প্রশ্নের উত্তরও দিচ্ছিল, যা তারা জানতেন না। ডেলিভারি বয়রা এখনো সেখানে ডেলিভারি করছিল। কোথাও পরিষেবার অভাব ছিল না। লবিতে মানুষ ছিল। নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে আমরাও ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু কোনো আতঙ্ক ছিল না।’
এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা বারবার বিমান সংস্থাকে ফোন করে জানতে চাইছিলাম যে, আমাদের পরবর্তী বিমান কখন পাব। কোনো সমস্যা হয়নি, কিন্তু আমাদের দেশে ফিরে যেতে হয়েছিল। বিমান সংস্থার গ্রাউন্ড স্টাফরা খুব সহায়তা করেছিলেন। তারা ঠান্ডা মাথায় সব কাজ করছিলেন। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। আমরা তাড়াতাড়ি বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলাম। তাই গতকাল বিকালে দিল্লির উদ্দেশ্যে প্রথম বিজনেস ফ্লাইটে থাকার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছিল। বিমানবন্দরটি পুরোপুরি চালু ছিল না। তবু কর্মীরা সব সময় সাহায্য করার জন্য উপস্থিত ছিলেন। এমনকি তারা এমন প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছিলেন, যা তারা নিজেরাও জানতেন না। এটা একটা জাতির মেরুদণ্ড এবং শক্তি দেখায়।’
সময়ের আলো/কেএইচও