চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিশু জান্নাতুল নিশা ইরাকে (৭) ধর্ষণের চেষ্টা ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী বাবু শেখ (৫০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরিনের আদালতে তিনি এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাবু শেখ নিজের অপরাধ স্বীকার করে ঘটনার সম্পূর্ণ বর্ণনা দিয়েছেন। মামলায় তিনি একমাত্র আসামি হওয়ায় দ্রুত বিচারকার্য শুরু হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাশের পাহাড়ে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে বাবু শেখের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই আক্রোশ থেকে গত রবিবার শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যান তিনি। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে শিশুটি চিৎকার শুরু করে। এতে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে বাবু শেখ নিজের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে শিশুটির গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেন।
এরপর শিশুটিকে মৃত ভেবে পাহাড়ের খাদে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। তবে মৃত্যুঞ্জয়ী শিশুটি গলাকাটা অবস্থায় পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে থাকা চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কে উঠে আসে। সেখানে কর্মরত সংস্কার শ্রমিকেরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রবিবার রাতেই তার গলার অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ লড়াই শেষে গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
ঘটনার পর পুলিশ ইকোপার্ক ও পাহাড়ের সব প্রবেশপথের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার সড়কের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার সকালে বাবু শেখকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করার পর পুলিশ তাকে নিয়ে অভিযানে যায় এবং পাহাড় থেকে শিশুটির পরিহিত পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রতিবেশী হিসেবে বিরোধের জেরে এই হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বাবু শেখ।
এদিকে নিহতের বাড়িতে প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর শোক নিয়ে বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নিহত ইরার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে যান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত। তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতা জানাতে।
প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, এই ঘটনা শুধু মর্মান্তিক নয়, এটি একটি পৈশাচিক ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে যা প্রয়োজন সব করা হবে। অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব, এটি পরিবারের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করেছিলেন। শিশুটির মৃত্যুর পর সেটি এখন নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই