মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের তীব্রতায় বাংলাদেশিসহ প্রবাসীরা আতঙ্কিত।
বুধবার (৫ মার্চ) সকালের দুবাইয়ের আল কুসাইস এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুক, আকাশে উড়ন্ত ক্ষেপণাস্ত্র দেখতে পান। ভেবেছিলাম এটা দূরে যাবে, কিন্তু কাছে এসে পড়ল। সবাই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করল। বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়তে দেখলাম, বলেছেন তিনি।
ফারুক তিন বছর আগে নরসিংদীর পলাশ থেকে আমিরাতে আসেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। তিনি জানান, আতঙ্ক এখনো কাটে নি এবং দেশে ফেরার জন্য ছুটি চেয়েছেন।
ফারুকের মতোই আতঙ্কে আছেন অন্য প্রবাসীরা। নোভি, ফিলিপাইনের নাগরিক, দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহতে শপিংমলে কাজ করেন। তিনি জানান, ১ মার্চ রাতে বিকট শব্দে সবাই ভীত হয়ে যান এবং শপিংমল বন্ধ হয়ে যায়।
হবিগঞ্জের বাসিন্দা পারভেজ আহমেদ বাহরাইনে থাকেন। তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সাইরেনের কারণে কয়েক রাত ঘুমাতে পারেননি।
সৌদি আরবে থাকা জাহিদ হোসেন জানান, রিয়াদে শহরের মানুষ আতঙ্কিত, কখন যে ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়বে কেউ জানে না। ফ্লাইটও বন্ধ, তাই দেশে ফেরা এখন সম্ভব নয়।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ৭টি দেশের আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। ফ্লাইটরাডার-২৪ অনুযায়ী, রোববার অন্তত সাতটি বিমানবন্দরে ৩ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫, ইসরায়েলে ৮ জন এবং মার্কিন সেনা ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আমিরাত ও বাহরাইনে দুই বাংলাদেশি নিহত এবং কুয়েতে চারজন আহত হয়েছেন।
প্রবাসীরা সবাই আতঙ্কিত ও অসহায়। জাকিয়া সুলতানা, সৌদি আরবে কাজ করছেন, বলেন, অসহায় অবস্থায় আছি। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।
/ইউএমএইচ