চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দরবেশ হাট ডিসি সড়ক দিয়ে বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অবাধে কাঠ পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বনবিভাগকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বান্দরবানের লামা ও লোহাগাড়ার পুটিবিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান কাঠ পাচার করা হচ্ছে। এতে কয়েকটি অসাধু বনখেকো চক্র বন উজাড় করে বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই এবং লোহাগাড়ার পুটিবিলা ইউনিয়নের সড়াইয়া ও পঁহরচাদার বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে বনখেকোরা বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে পাহাড়ের ভেতরে নির্দিষ্ট স্থানে লুকিয়ে রাখে। পরে সেসব গাছ ট্রাক, মিনি পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহনে বোঝাই করে পাচার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ডলু বিট বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দিন-রাত সময় সুযোগ বুঝে এসব কাঠ পাচার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দরবেশ হাট ডিসি সড়ক দিয়ে ডলু বনবিট অফিসের কিছু লোকজনের যোগসাজশে বিভিন্ন জাতের কাঠ, সামাজিক বনায়নের গাছ ও জ্বালানি কাঠ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শতাধিক কাঠ বোঝাই ছোট-বড় ট্রাক, জিপগাড়ি ও ভ্যান চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট অংকের টাকার বিনিময়ে এসব যানবাহন থেকে কাঠ পাচার করা হয়। বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান কাঠ বোঝাই প্রতি ট্রাক থেকে ১ থেকে ৫ হাজার টাকা, প্রতি জিপগাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ টাকা, বাঁশ বোঝাই ট্রাক থেকে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা এবং জ্বালানি কাঠ বোঝাই ভ্যান থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পুটিবিলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এমচর হাট বাজারের পূর্ব পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আবদুস ছালামের বাড়ির সামনের সড়কে ডলু বনবিটের ফরেস্ট গার্ড প্রদীপ, নাজিম ও মালি তমিজ উদ্দিন কাঠ বোঝাই গাড়ি থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে গাড়ি আটকে রাখা হয় বলেও জানান স্থানীয়রা।
রুবেল নামে এক গাড়িচালক বলেন, দিন-রাত দরবেশহাট ডিসি সড়ক দিয়ে কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট ডলু বনবিট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন বনের কাঠ পাচার করছে। এর মধ্যে সেগুন, গামারি এবং সামাজিক বনায়নের গাছও রয়েছে। বনবিভাগের কিছু লোকজন বনখেকোদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে এসব কাঠ পাচারে সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান বলেন, ডলু বনবিটের লোকজন বনাঞ্চল রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও তারা টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে বন উজাড় করে দিচ্ছেন। গাছ বোঝাই প্রতি ট্রাক ও জিপগাড়ি থেকে টাকা আদায় করা হয়। তবে এসব টাকার ভাগ কোথায় যায় তা জানা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডলু বিট কর্মকর্তা ইমন শাহ বলেন, টাকা নিয়ে কাঠ পাচারের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা বজলুর রশিদ মুঠোফোনে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি প্রতিবেদককে তার অফিসে গিয়ে কথা বলার জন্য বলেন।
সময়ের আলো/আরবিএন