বরিশালের বানারীপাড়ায় বাবা–মায়ের সঙ্গে অভিমান করে নাহিদ (১৫) নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বানারীপাড়া সরকারি ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন ‘লুৎফা ভিলায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাহিদ ওই এলাকার লুৎফা ভিলার ভাড়াটিয়া ও একটি এনজিওর সাবেক কর্মী মো. জাকির হোসেনের ছেলে এবং তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাশের এক ভাড়াটিয়ার জানালায় ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভবন মালিক মজিবর রহমান নাহিদের বাসায় গিয়ে তাকে ও তার মাকে গালাগাল ও হুমকি দিয়ে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবা ও মা নাহিদকে বকাঝকা এবং বাবা তাকে বেদম মারধর করেন। এতে অপমানবোধ ও অভিমান করে নাহিদ বাসার একটি কক্ষের বৈদ্যুতিক পাখার হুকের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
বৃহস্পতিবার সকালে নাহিদের বিক্ষুব্ধ সহপাঠীরা অভিযুক্ত ভবন মালিক মজিবর রহমানের বাসায় ইটপাটকেল মেরে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। বৃহস্পতিবার ১২টার দিকে দাফনের জন্য নাহিদের মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বরিশাল জেলা প্রশাসকের নিকট ছেলের মরদেহের পোস্টমর্টেম না করার জন্য লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক আবেদনটি মঞ্জুর করেন। এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আআ