জাকাতের টাকা জাকাতের হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জাকাতের নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করে অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হলে জাকাত আদায় হবে না। যেমন রাস্তাঘাট, পুল নির্মাণ করা, কূপ খনন করা, বিদ্যুৎ-পানির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। জাকাতের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ করা, ইসলাম প্রচার, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া, ওয়াজ মাহফিল করা, দ্বীনি বই-পুস্তক ছাপানো, ইসলামি মিডিয়া তথা রেডিও, টিভির চ্যানেল করা ইত্যাদিও জায়েজ নয়। মোটকথা, জাকাতের টাকা এর হকদারকেই দিতে হবে। অন্য কোনো ভালো খাতে ব্যয় করলেও জাকাত আদায় হবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৬৯৪৭)
আত্মীয়স্বজন যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয় তা হলে তাদের জাকাত দেওয়াই উত্তম। ভাই, বোন, ভাতিজা, ভাগনে, চাচা, মামা, ফুপু, খালা এবং অন্য আত্মীয়কেও জাকাত দেওয়া যাবে (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭১৬০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৬/৫৪২)। দেওয়ার সময় জাকাতের কথা উল্লেখ না করে মনে মনে জাকাতের নিয়ত করলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে এটাই উত্তম।
পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, পরদাদা প্রমুখ ব্যক্তি যারা তার জন্মের উৎস তাদের নিজের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। এমনিভাবে নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি এবং তাদের অধীনস্থকে নিজ সম্পদের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। স্বামী এবং স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৮)
বাড়ির কাজের ছেলে বা কাজের মেয়েকে জাকাত দেওয়া জায়েজ, যদি তারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়। তবে কাজের পারিশ্রমিক হিসাবে জাকাতের অর্থ দিলে জাকাত আদায় হবে না। কেউ কেউ কাজের লোক রাখার সময় বলে, মাসে এত টাকা করে পাবে আর ঈদে একটা বড় অঙ্ক পাবে। এ ক্ষেত্রে ঈদের সময় দেওয়া টাকা জাকাত হিসাবে প্রদান করা যাবে না। সেটা তার পারিশ্রমিকের অংশ বলেই ধর্তব্য হবে।
কোনো লোককে জাকাতের উপযুক্ত মনে হওয়ায় তাকে জাকাত দেওয়া হলো কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রকাশ পেল যে, লোকটির নেসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা হলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় জাকাত দিতে হবে না। তবে যাকে জাকাত দেওয়া হয়েছে সে যদি জানতে পারে যে, এটা জাকাতের টাকা ছিল সে ক্ষেত্রে তার ওপর তা ফেরত দেওয়া ওয়াজিব। জাকাত দেওয়ার পর যদি জানা যায় যে, জাকাত গ্রহীতা অমুসলিম ছিল তা হলে জাকাত আদায় হবে না। পুনরায় জাকাত দিতে হবে।