মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। একজন কুয়েতে মাইন বিস্ফোরণে এবং আরেকজন বাহরাইনে ড্রোন হামলায় নিহত হন।
সবশেষ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ সময় বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে কুয়েতের জারা জালমি এলাকার মরু অঞ্চলে একটি মিসাইল বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত হন সন্দ্বীপ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহেদ হোসেন (৩০)। তিনি কামাল উদ্দিনের ছোট ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগেও বড় বোনের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছে, তখন সে উট গুলো একত্র করে পরে আবার কল দিবে বলে কল কেটে দেয়। এর পরই বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার নিকটাত্মীয়ের বরাত দিয়ে জানা যায়, জাহেদ উট চড়ানোর সময় মরুভূমিতে মিসাইলের ধ্বংসবসেস পড়ে থাকতে দেখে, সে উট চড়ানো কাজে ব্যবহৃত একটি লাঠি জাতীয় বস্তু দিয়ে সেটি স্পর্শ করামাত্রই সেখানে থাকা অবিস্ফোরিত মাইন বিস্ফোরণ হয়ে তার মাথায় আঘাত করে।
প্রায় চার বছর আগে উট চড়ানোর (ক্যামেল রাইডিং) ভিসায় কাজের উদ্দেশ্যে তিনি কুয়েতে যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুয়েত থেকে এক আত্মীয় ফোন করে পরিবারের সদস্যদের তার মৃত্যুর খবর জানান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি প্রতিবন্ধী সন্তান রেখে গেছেন।
এর আগে গত সোমবার (২ মার্চ) ভোরে বাহরাইনের আল হিদ ড্রাইডক এলাকায় অবস্থিত আরব শিপবিল্ডিং অ্যান্ড রিপেয়ার ইয়ার্ডে ড্রোন হামলার ঘটনায় নিহত হন সন্দ্বীপের আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা মো. তারেক (৫৫)। তিনি মৃত ছায়েদুল হকের পুত্র।
জানা গেছে, তারেক প্রায় ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।
এদিকে অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রবাসে দুই সন্দ্বীপবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে খবর পেয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জাহেদের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মরদেহ দ্রুত দেশে আনার দাবি জানান।
সময়ের আলো/জোই