মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান ইরান যুদ্ধে দেশটিতে স্থল হামলা না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একইসঙ্গে তেহরানের পরবর্তী নেতৃত্ব কে থাকবে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মতামত থাকবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি (স্থল হামলা) সময়ের অপচয়। তারা সবকিছু হারিয়েছে, নিজেদের নৌবাহিনী হারিয়েছে। তাদের হারানোর মতো আর অবশিষ্ট কিছুই নেই।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অবশ্য বলেছেন, মার্কিন স্থল হামলার বিষয়ে নিজেদের প্রস্তুত ও তাদের জন্যে অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছিলেন।
ইরানের নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া তেহরান নতুন নেতা নির্বাচন করলে আমরা আরও গভীরে গিয়ে তাদের আঘাত করবো।
তিনি বলেন, আমরা ইরানের নেতৃত্বে এমন কাউকে চাই না যে ইরানকে পুনর্গঠন করতে দীর্ঘ ১০ বছর সময় নেবে। আমরা চাই তাদের এমন একজন ভালো নেতা থাকুক। আমাদের নজরে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এই কাজটি খুব ভালোভাবে করতে পারবেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ করেননি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও খুব একটা নেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার গতি ও তীব্রতা অব্যাহত থাকবে। তার লক্ষ্য হচ্ছে ‘অভিযান চালিয়ে সবকিছু পরিষ্কার করে দেয়া’, যাতে ইরানে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরান এখনও কূটনৈতিক পথ খুঁজছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন কোনো সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সম্প্রচারিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করছি না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেন আলোচনা করব তার কোনো কারণও দেখি না। কারণ আমরা তাদের সঙ্গে দুই দফায় আলোচনা করেছি, আর প্রতিবারই তারা আলোচনার মাঝেই আমাদের ওপর হামলা করেছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে স্থল আক্রমণ চালাতে পারে– এমন আশঙ্কার বিষয়ে আরাঘচি বলেন, আমরা তাদের (মার্কিন বাহিনীর) অপেক্ষায় আছি, কারণ আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমরা তাদের মোকাবিলা করতে পারব। আর সেটি তাদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় হবে।
/এমএইচআর