নেপালে ভূমিধস জয়ের পথে বালেন্দ্র শাহের দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনে র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বালেন্দ্র শাহ–এর নতুন গঠিত দল রাষ্ট্রীয়

2026-03-06T18:46:12+00:00
2026-03-06T18:46:12+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
নেপালে ভূমিধস জয়ের পথে বালেন্দ্র শাহের দল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম 
বালেন্দ্র শাহ। সংগৃহীত ছবি
নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনে র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বালেন্দ্র শাহ–এর নতুন গঠিত দল রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি) বড় ধরনের জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দলটি বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা পর্যন্ত যেসব ৯৪টি আসনে ভোট গণনা চলছিল, তার মধ্যে আরএসপি ৭০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি—প্রতিটি দলই মাত্র ছয়টি করে আসনে এগিয়ে আছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেন জি তরুণদের তীব্র আন্দোলনের ফলে কে. পি. শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর এটিই ছিল নেপালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশ-বিদেশে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।

ভারতও এই নির্বাচন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। ভারতের আশা, রাজনৈতিকভাবে অস্থির এই হিমালয় রাষ্ট্রে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠিত হবে, যাতে দুই দেশের মধ্যে উন্নয়নমূলক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া যায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারত সবসময় নেপালের শান্তি, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করেছে। আমরা নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী, যাতে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়।” তিনি আরও জানান, নেপাল সরকারের অনুরোধে নির্বাচনের জন্য ভারত লজিস্টিক সহায়তাও প্রদান করেছে।

সাবেক কাঠমান্ডু মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘বালেন’ নামে পরিচিত, ঝাপা-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখানে তিনি চারবারের প্রধানমন্ত্রী এবং সিপিএন-ইউএমএল নেতা কে. পি. শর্মা অলির শক্ত ঘাঁটিতেই তাকে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে দিয়েছেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত শাহ পেয়েছেন ৬,০৯০ ভোট, আর অলি পেয়েছেন মাত্র ১,২৪৮ ভোট।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি, প্রগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিক পার্টি, শ্রম সংস্কৃতি পার্টি এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী—প্রতিটি একটি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে।

এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, আরএসপি ও নেপালি কংগ্রেস—প্রতিটি দল একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। কাঠমান্ডু–১ আসন থেকে আরএসপির রঞ্জু দর্শনা ১৫,৪৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে মুস্তাং আসন থেকে নেপালি কংগ্রেসের যোগেশ গওচান থাকালি ৩,৩০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

এদিকে মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’ রুকুম পূর্ব আসনে ৫,৯২৪ ভোট পেয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে আছেন।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবি লামিছানে নেতৃত্বাধীন আরএসপি কাঠমান্ডুর সব ১০টি আসনেই এগিয়ে রয়েছে, যা দলটির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শুরু হয় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে, এবং নির্বাচন কমিশনের আশা শুক্রবার রাতের মধ্যেই পুরো ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।


উল্লেখ্য, ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসপি নির্বাচনের আগে থেকেই বালেন্দ্র শাহকে তাদের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে সামনে আনে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দলটি তরুণদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পায়। অন্যদিকে নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন-ইউএমএল—এই দুই দলই গত বছর জেন জি আন্দোলনের ফলে পতন হওয়া সরকারের অংশ ছিল।

নেপালি কংগ্রেস তাদের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে দলের সভাপতি গগন থাপাকে সামনে এনেছে, আর সিপিএন-ইউএমএল তাদের পক্ষ থেকে কে. পি. শর্মা অলিকেই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।

নেপালে মোট ১ কোটি ৮৯ লাখ ভোটার ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভা (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নির্বাচনের জন্য ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটের মাধ্যমে (ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতি) নির্বাচিত হবেন এবং ১১০ জন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন।

সরাসরি ভোটের ১৬৫টি আসনের জন্য প্রায় ৩,৪০০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ১১০টি আসনের জন্য ৩,১৩৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়েছেন।

গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে জেন জি তরুণরা প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা অলিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। তখন তিনি নেপালি কংগ্রেসের সমর্থনে গঠিত একটি জোট সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, যার সংসদে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন ছিল।

অলির পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাওডেল ১২ সেপ্টেম্বর সংসদ ভেঙে দেন এবং সুসীলা কার্কিকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।

জেন জি আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতির অবসান এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তন।

গত ১৮ বছরে নেপালে ১৪টি সরকার পরিবর্তন হয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা এবং অস্থিতিশীলতারই স্পষ্ট প্রমাণ।


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   নেপাল  বালেন্দ্র শাহ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: