মানিকগঞ্জের সিংগাইয়ে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটায় বাধা দেওয়ায় চুরির অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, চুরির অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটায় বাধা দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের দুলাল পাল (৫০), নাছির পাল (৫৫), কারিম মোল্লা (২৮), পান্নু মোল্লা (৫০) ও রবিনের (৩২) বিরুদ্ধে ওই চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।
প্রতিবেশী ওহাব মিয়া বলেন, শুরু থেকেই দুলাল এখানকার মাটি কাটতে নিষেধ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাটিকাটা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুলালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সাইফুল হোসেন বলেন, যারা মাটি কাটছেন তারা প্রায়ই মেশিনসহ প্রয়োজনীয় জিনিস বারবার আনা নেয়া করেন। এই মেশিন নিজেরা সরিয়ে একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী দুলাল পাল অভিযোগ করে বলেন, পাশের লক্ষ্মীপুর গ্রামের রাসেল মিয়া তিন ফসলি জমির মাটি কাটা শুরু করেন। মাটি বহনকারী ট্রাক জমির ওপর দিয়ে চলাচল করায় জমি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে তিনি মাটি কাটায় বাধা দেন।
তিনি আরও বলেন, মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় তাকে রামদা দেখিয়ে প্রথমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাটি কাটা বন্ধ হলেও সেই ক্ষোভ থেকেই রাসেল মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে জানান তিনি।
মাটি কাটার কথা স্বীকার করে রাসেল মিয়া বলেন, মাটি কাটা এসিল্যান্ড বন্ধ করেনি, নায়েব বন্ধ করেছে। পরে আমি অন্যত্র মাটি বিক্রি করেছি। আমার সেচ দেওয়া সেলু মেশিন দুলাল গং চুরি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাহিদা বলেন, আমি তদন্তে গিয়ে অভিযুক্তরা চুরির বিষয়ের সত্যতা পাইনি। পরে রবিন নামে একজন আমাকে ফোন করে জানিয়েছে সেলু মেশিন পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বাদী আমাকে কিছু জানায়নি।
সময়ের আলো/আআ