কুয়েতে মরুভূমিতে পড়ে থাকা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ বিস্ফোরণে মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন (৩০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর এলাকার কামাল দফাদারের ছোট ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) জাহেদের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের ভগ্নিপতি মো. বাবর উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার কুয়েতের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সহকর্মীদের কাছ থেকে আমরা জাহেদের মৃত্যুর খবর জানতে পারি। এরপর কুয়েতে থাকা স্বজন এবং পরিবারের কাছে মৃত্যুর বিষয়টি অবহিত করি। মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে ফোনে কথা বলেন জাহেদ।
এ নিয়ে তিন দিনের ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দ্বীপের দুই প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। একজন কুয়েতে মাইন বিস্ফোরণে এবং আরেকজন বাহরাইনে ড্রোন হামলায় নিহত হন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগেও বড় বোনের সাথে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। তখন সে উটগুলো একত্র করে পরে আবার কল দেবে বলে কল কেটে দেয়। এর পরই বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তার নিকটাত্মীয়ের বরাত দিয়ে জানা যায়, জাহেদ উট চড়ানোর সময় মরুভূমিতে মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখে। সে উট চড়ানো কাজে ব্যবহৃত একটি লাঠি জাতীয় বস্তু দিয়ে সেটি স্পর্শ করা মাত্রই, সেটি বিস্ফোরণ হয়ে তার মাথায় আঘাত করে।
প্রায় চার বছর আগে উট চড়ানোর (ক্যামেল রাইডিং) ভিসায় কাজের উদ্দেশ্যে তিনি কুয়েতে যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুয়েত থেকে এক আত্মীয় ফোন করে পরিবারের সদস্যদের তার মৃত্যুর খবর জানান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ও দুই বছর বয়সি একটি প্রতিবন্ধী সন্তান রেখে গেছেন।
এদিকে খবর পেয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জাহেদের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মরদেহ দ্রুতত দেশে আনার দাবি জানান।
সময়ের আলো/আআ