ঈদবাজারে দুশ্চিন্তায় চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা

শরীফুল ইসলাম চাঁদপুর

সারাদেশ

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজারে কেনাকাটা বাড়লেও ভবিষ্যৎ কেনাবেচা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে

2026-03-07T00:54:06+00:00
2026-03-07T00:54:06+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
ঈদবাজারে দুশ্চিন্তায় চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা
শরীফুল ইসলাম চাঁদপুর
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম   (ভিজিট : ১০৮)
ঈদবাজারে দুশ্চিন্তায় চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা। ছবি : সময়ের আলো
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজারে কেনাকাটা বাড়লেও ভবিষ্যৎ কেনাবেচা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের অনেক পরিবারের আয় নির্ভর করে প্রবাসে কর্মরত স্বজনদের পাঠানো টাকার ওপর। যদি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রবাসীরা নিয়মিতভাবে টাকা পাঠাতে না পারেন তা হলে সেই পরিবারগুলোর মানুষ বাজারে কেনাকাটা করতে কম আসবেন। এতে করে সামনের দিনগুলোতে কেনাবেচা কমে যেতে পারে।

এদিকে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চাঁদপুর শহরের মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে এখনও ক্রেতাদের সমাগম দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন বিপণিবিতানে চলছে কেনাকাটা। সব বয়সী মানুষের মাঝে ঈদকে ঘিরে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উচ্ছ্বাস ও ব্যস্ততা।

শহরের বিভিন্ন মার্কেটে দোকানিরা দেশি-বিদেশি নানান পণ্যের আকর্ষণীয় পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বাবা-মায়েরা পরিবারের ছোট সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরে ঘুরে পছন্দের পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনছেন। বিশেষ করে মেয়েদের থ্রি-পিস, কসমেটিকস ও ফ্যাশন সামগ্রীর দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। শহরের চাঁদপুর হকার্স মার্কেট, ফয়সাল শপিং কমপ্লেক্স ও মীর শপিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে সকাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে।

হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী মাসুদ জানান, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সামনে বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় আছি। কারণ প্রবাসীরা যদি ঠিকমতো টাকা পাঠাতে না পারেন তা হলে প্রবাসী পরিবারগুলো মার্কেটে আসবে না। তখন স্বাভাবিকভাবেই কেনাবেচা কমে যাবে।
আরও পড়ুন

মীর শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী বাঁধন বলেন, চাঁদপুরের অধিকাংশ পরিবারে প্রবাসী রয়েছে। মূলত প্রবাসীরা আগেভাগেই টাকা পাঠিয়ে দেয়, যার জন্য রোজার শুরু থেকে কেনাবেচা ভালো ছিল। তবে সামনে দিনগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিক্রি কমে যাবে। আমরা চাই যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাক। তা হলে প্রবাসীরাও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে এবং পরিবারগুলোও আগের মতো বাজারে এসে কেনাকাটা করতে পারবে। ক্রেতা মারিয়া ইসলাম রাত্রি জানান, সামর্থ্যরে মধ্যে থেকেই পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কেনার চেষ্টা করছি। বড়দের জন্য না হলেও ছোটদের জন্য আলাদা বাজেট রেখে কিনতে হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সবকিছুর দাম আরও বেড়ে যাবে।

হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ জাকির হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে ক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে মার্কেটের ভেতরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কিছুক্ষণ পরপর মাইকে নেতাদের সচেতন করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো ক্রেতা কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা যাতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারেন তার জন্য আমরা প্রতিদিন মার্কেটগুলোতে অভিযান পরিচালনা করছি। এ ছাড়া কোনো ক্রেতা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করলে আমরা সেই বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করে থাকি।

এএডি/


  বিষয়:   ঈদবাজার  দুশ্চিন্তা  চাঁদপুর  ব্যবসায়ী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: