মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন এক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এই সংঘাতের তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
গত মঙ্গলবার (৪ মার্চ) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য এই আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৌদি আরবের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে পাকিস্তান চুপচাপ বসে থাকবে না।
রিয়াদের সঙ্গে ইসলামাবাদের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা উল্লেখ করে ইশাক দার ইরানকে সরাসরি সতর্ক করেছেন।
তিনি জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে তিনি এই চুক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন এবং সৌদি আরবকে আক্রমণ না করার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
দারের মতে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা চুক্তির দায়বদ্ধতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। অর্থাৎ ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আঁচ যদি কোনোভাবে সৌদি আরবে পৌঁছায়, তবে পাকিস্তানের সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রিয়াদের আল-ইয়ামামাহ প্রাসাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো উভয় দেশের যেকোনো একটির ওপর সামরিক হামলা হলে তা অন্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। চুক্তির আওতায় পাকিস্তান যেমন সৌদির সামরিক আধুনিকীকরণে সহায়তা করবে, তেমনি বিনিময়ে রিয়াদের কাছ থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা লাভ করবে।
তবে পাকিস্তানের জন্য এই যুদ্ধে জড়ানো মোটেও সহজ কোনো সিদ্ধান্ত হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশিষ্ট বিশ্লেষক বাকির সাজ্জাদ সৈয়দ দেশটির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ডন’ এ লিখেছেন, পাকিস্তানের জন্য সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও আত্মঘাতী হতে পারে। একদিকে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বিশাল অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজারের স্বার্থ জড়িত। বর্তমানের ভঙ্গুর অর্থনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতায় জর্জরিত ইসলামাবাদের জন্য সুদূরপ্রসারী কোনো ভৌগোলিক সংঘর্ষে জড়ানো বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।
বর্তমানে পাকিস্তানের সরকারি অবস্থান হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইসলামাবাদ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষেই তাদের অবস্থান। তবে সংঘাত যদি আরও বড় আকার ধারণ করে এবং কোনো মুসলিম সামরিক জোট গঠিত হয়, তবে পাকিস্তানের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসলামাবাদকে সম্পূর্ণ নতুন এবং কঠিন কোনো কৌশল অবলম্বন করতে হতে পারে।
সময়ের আলো/আরবিএন