আত্মগোপনে থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী তার স্ত্রী ইকরাকে ঘিরে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। গভীর রাতে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি এটিকে নিজের ‘শেষ পোস্ট’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আলভী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি নেপালে শুটিংয়ে যাওয়ার পর থেকেই বাসায় ইকরার মেয়ে ও ছেলে বন্ধুদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এমনকি মাঝরাত পর্যন্ত বাসায় মদ ও গাঁজার আসর বসত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনার প্রমাণ হিসেবে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তে দেখা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন আলভী।
অভিনেতা আরও বলেন, ইকরার মোবাইল ফোন কে বা কারা ‘ডিসেবল’ করেছে তা ফোনের ফরেনসিক রিপোর্টে বেরিয়ে আসা উচিত। পাশাপাশি তার নিজের ফোনে থাকা ইকরার সঙ্গে আলাপচারিতাও তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
স্ট্যাটাসে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি ইকরার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, মৃত্যুর পর ইকরার পোস্টমর্টেম করাতে কেন পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করা দরকার। একই সঙ্গে তিনি অনুরোধ জানান, যেন কোনো চাপের মুখে এই রিপোর্টের প্রকৃত তথ্য পরিবর্তন করা না হয়।
এ ছাড়া স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক নিয়েও অভিযোগ তোলেন আলভী। তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪১তম ব্যাচের ‘নাবিদ’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ইকরার সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্ত হওয়া উচিত। আলভীর দাবি, তার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় ইকরা অন্য একটি বিয়েও করেছিলেন এবং বাসরও করেছিলেন। তবে ভালোবাসার কারণে তিনি বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
পোস্টের শেষ অংশে আলভী বলেন, ওপর মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব এবং কর্মক্ষেত্রের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে হয়তো তাকে বাঁচতে দেওয়া হবে না। তাই তার অনুপস্থিতিতে অন্তত তার ছেলে রিজিকের কথা ভেবে ভক্তদের কাছে তিনি অনুরোধ করেন, যেন ইকরার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য সবার সামনে তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর মাত্র ১৯ বছর বয়সে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন জাহের আলভী ও ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই দম্পতির রিজিক নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎই মারা যান ইকরা। সেদিন দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় আলভী নেপালে একটি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিতে অবস্থান করছিলেন।
/ইউএমএইচ