ইচ্ছাশক্তি, সাহস আর কঠোর পরিশ্রমে ভাগ্য বদলেছে নড়াইলের নারী উদ্যোক্তা রুনা লায়লার। স্বামী ইউনুছ আলী সুমনকে সঙ্গে নিয়ে সীমিত পুঁজিতে গড়ে তুলেছেন ‘নূসরাত এগ্রো অ্যান্ড পোল্ট্রি ফার্ম’। এক সময়কার ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষত কাটিয়ে আজ এই খামারকে ঘিরেই স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই দম্পতি। তাদের এই সাফল্য স্থানীয় বেকার যুবকদের অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রুনা লায়লার এই স্বপ্নযাত্রার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী ইউনুছ আলী সুমন গুরুতর আহত হওয়ার পর তাদের জীবন অনেকটা থমকে গিয়েছিল। কিন্তু দমে যাননি এই দম্পতি। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ছোট পরিসরে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি দিয়ে যাত্রা শুরু করেন রুনা। শখের বশে কয়েকটি মুরগি পালন থেকে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ আজ রূপ নিয়েছে একটি বড় খামারে।
ভোর হতেই এই খামারে শুরু হয় রুনার কর্মব্যস্ততা। তার কাজে স্বামীও সহায়তা করেন। বর্তমানে তাদের খামারে শুধু ব্রয়লার বা লেয়ার নয়, যুক্ত হয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের মুরগি ও কবুতরসহ নানা প্রজাতির পাখি। খামারটি থেকে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ ডিম স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা তাদের আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানতে চাইলে রুনা লায়লা বলেন, শুরুটা খুব ছোট ছিল, কিন্তু লক্ষ্য ছিল বড়। যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। স্বামীর দুর্ঘটনার পর আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও কঠোর পরিশ্রম আমাদের আবার উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। তার স্বামী ইউনুছ আলী সুমন জানান, শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে খামারের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখে তিনি এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।
রুনা লায়লার এই উদ্যোগকে স্থানীয় তরুণদের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নড়াইল সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক এলাহী বলেন, রুনা লায়লার উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছি। এলাকার বেকার যুবকদের জন্য এটি একটি বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, এমন ছোট ছোট খামার শুধু কর্মসংস্থানই তৈরি করে না, বরং দেশের পুষ্টির চাহিদাও মেটায়। এ ধরনের উদ্যোক্তারা আমিষের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে আমরা তাদের সব ধরনের চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করছি।
সময়ের আলো/আআ