সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে পর পর ১৭টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে ইরান। একইসঙ্গে ১১৭টি ড্রোন হামলাও চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির এক সপ্তাহের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। শনিবার প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইরান। তবে এর মধ্যেই রোববার ফের আরব আমিরাতে হামলা চালাল তেহরান।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রোববার তাদের দিকে ১৭টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে ইরান। তার মধ্যে ১৬টি আঘাত হানার আগে ধ্বংস করা হয়েছে। একটি মিসাইল সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে। যে ১১৭টি ড্রোন ছুড়েছে ইরান, তার মধ্যেও বেশিরভাগ আকাশে ধ্বংস করেছে। তবে চারটি ড্রোন আটকাতে পারেনি। এসব ড্রোন আঘাত হানলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে আরব আমিরাতে মোট চার জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তারা প্রত্যেকেই বিদেশি নাগরিক। জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল এবং বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে মোট ২৩৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে ইরান। এ ছাড়া আটটি ক্রুজ মিসাইল এবং এক হাজার ৪২২টি ড্রোন হামলাও চালিয়েছে। যদিও এগুলির মধ্যে বেশির ভাগ হামলাই প্রতিহত করেছে দাবি করেছে দেশটি।
আমেরিকা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে নেমে, উপসাগরীয় দেশগুলিতে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপসাগরীয় দেশগুলিতে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন শনিবার। সামরিক সংঘাতের শুরু থেকে উপসাগরীয় যে সব দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে, তার জন্য ‘ক্ষমা’ও চেয়ে নেন তিনি। পেজেশকিয়ান জানান, ওই প্রতিবেশী দেশগুলি আমেরিকাকে সাহায্য না করলে ইরান তাদের উপরে হামলা চালানো হবে না।
তবে তার ওই বক্তব্য ঘিরে ইরানের ভেতরেই বিতর্ক দানা বাঁধে। তার বক্তব্যে নিজ দেশেই চাপের মুখে পড়েন প্রেসিডেন্ট। নিজের বক্তব্য থেকে ‘ক্ষমা’ শব্দটি সরিয়ে দিয়ে ফের এক্স হ্যান্ডলে প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি লেখেন, ইরানের উপর হামলা হলে, চুপ করে থাকব না, পাল্টা হামলা হবেই।
সময়ের আলো/আআ