দ্বৈত বৈষম্যের অবসান চান সাঁওতাল নারীরা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশ

আদিবাসী হিসেবে জাতিগত বঞ্চনা এবং নারী হিসেবে লিঙ্গবৈষম্য— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট সাঁওতাল নারীরা এবার ‘দ্বৈত বৈষম্যের’ অবসান চেয়ে রাজপথে

2026-03-08T23:13:18+00:00
2026-03-08T23:13:18+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
সারাদেশ
দ্বৈত বৈষম্যের অবসান চান সাঁওতাল নারীরা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৩ পিএম 
দ্বৈত বৈষম্যের অবসান চান সাঁওতাল নারীরা। ছবি : সময়ের আলো
আদিবাসী হিসেবে জাতিগত বঞ্চনা এবং নারী হিসেবে লিঙ্গবৈষম্য— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট সাঁওতাল নারীরা এবার ‘দ্বৈত বৈষম্যের’ অবসান চেয়ে রাজপথে নেমেছেন। 

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে রোববার (৮ মার্চ) সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নে সাঁওতাল নারীদের এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভায় এই দাবি তোলা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অবলম্বন’-এর উদ্যোগে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ‘আমরাই পারি’ জোটের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সাঁওতাল নারীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন। 

এদিন সকাল ১১টায় কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে বের হওয়া র‍্যালিটি ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে মজুরি বৈষম্য দূর ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি ফুটে ওঠে।

র‌্যালি শেষে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে সাঁওতাল ও বাঙালিদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পল্লবী মুর্মু। এতে বক্তব্য দেন অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, কাটাবাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌড় চন্দ্র পাহাড়ি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সান্জুয়ারা বেগম ও সাহানা বেগম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন আদিবাসী যুব নেত্রী সোনালী মার্ডি, আলবীনা মুর্মু, সাধনা রানী, সরস্বতী পাহাড়ি, রুমী পাহাড়ি, তারামনী টপ্য, শিল্পী ওরাও, আবিনা টপ্য, মেরিনা মুর্মু ও জ্যোথি মুর্মুসহ স্থানীয় নারীনেত্রীরা।

সভায় বক্তারা বলেন, সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই সৃজনশীল ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পুরুষের পাশাপাশি নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। আদিবাসী নারীদের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য আরও প্রকট। তারা নারী হওয়ার কারণে যেমন বৈষম্যের মুখে পড়েন, তেমনি আদিবাসী পরিচয়ের কারণেও নানা বঞ্চনার শিকার হন।


বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময় আদিবাসী নারীরা সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের অনেককে নিজস্ব ভূমি থেকেও উচ্ছেদ হতে হচ্ছে। কৃষি শ্রমবাজারেও আদিবাসী ও বাঙালি নারী শ্রমিকরা পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান, যা একটি দীর্ঘদিনের বৈষম্য।

তারা আরও বলেন, মানবাধিকার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা লিঙ্গভেদে বৈষম্য করা মানবাধিকারের পরিপন্থি। এই বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় বক্তারা আদিবাসী নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। 

একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

এফআর


  বিষয়:   দ্বৈত  বৈষম্য  অবসান  সাঁওতাল  নারী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: