মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটির নিকট ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুইজনের মধ্যে একজন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সৌদি প্রবাসী বাচ্চু মিয়া (৪০)। তিনি উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের রইছ উদ্দিনের ছেলে।
রোববার (৮ মার্চ) স্থানীয় সময় ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলোদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ওই হামলা হয়। এতে বিস্ফোরণে বাচ্চু মিয়াসহ দুইজন নিহত হন। আহত হন আরও ১২ জন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত বাচ্চু মিয়া এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তাদের মধ্যে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। বাচ্চু মিয়া দেশে কাঠ মিস্ত্রির কাজ করতেন। সংসারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য আট বছর পূর্বে ধার দেনা করে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে আল তোয়াইক বলোদিয়া কোম্পানিতে কাজ করতেন তিনি। কাজের ফাঁকে নিয়মিত মুঠোফোনে কথা বলতেন স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে।
সর্বশেষ মুঠোফোনে স্ত্রী জোসনা আক্তারের সঙ্গে কথা হয় বাংলাদেশ সময় রোববার রাত নয়টার দিকে।
জোসনা আক্তার জানান, অন্য সময় তিনি ধীর, শান্ত কণ্ঠে কথা বলতেন। কিন্তু গতকাল কথা বলার সময় তাকে খুবই উদ্বিগ্ন মনে হয়েছে। খুব দ্রুত ছেলে-মেয়েদের কথা জিজ্ঞেস করে, ইফতার খাওয়ার কথা বলে ফোন রেখে দেন তিনি। এর আধাঘণ্টা পর রাত সাড়ে নয়টার দিকে সৌদি আরব থেকে তার স্বামীর সহকর্মী বিল্লাল মিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাচ্চু মিয়ার নিহত হওয়ার সংবাদ পরিবারকে জানান।
তিনি আরও জানান, তার স্বামী ধার-কর্জ করে সৌদি গিয়েছিল। এখনও সেই ঋণ পরিশোধ হয় নাই। এতিম সন্তানদের নিয়ে এখন তিনি কীভাবে চলবো?
সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে শোকাহত এলাকাবাসীর ভিড়। জরাজীর্ণ একটি ঘরে নিহতের স্ত্রী জোসনা আক্তার বিলাপ করছেন। পাশেই ছেলেমেয়েরা পিতার জন্য আর্তনাদ করছিল। দারিদ্র্য ও অসচ্ছলতা স্পষ্ট দেখা যায় পরিবারে। জরাজীর্ণ ঘরে তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকেন তার স্ত্রী। ধার-দেনা করে সৌদি আরবে গিয়েও সংসারে সচ্ছলতা আনতে পারেননি বাচ্চু মিয়া।
স্থানীয় বাসিন্দার গণমাধ্যম কর্মী আ. কুদ্দুস বলেন, বাচ্চু মিয়ার পরিবারটি হতদরিদ্র। পরিবার ও ছেলেমেয়েদের দায়িত্ব নিতে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি দ্রুত মরদেহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন বলেন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এ বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন। দলের পক্ষ থেকে আমরা গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছি। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের পাশে আমরা আছি।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের বাড়িতে এসে সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। পরিবারটি খুবই দরিদ্র। পর্যায়ক্রমে আরও সহায়তা দিয়ে সরকার তাদের পাশে থাকবে।
এফআর