যুদ্ধে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এআই

সময়ের আলো ডেস্ক

প্রযুক্তি

সমরক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারকে নতুন করে আতশকাচের তলায় নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত।২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে

2026-03-10T03:51:05+00:00
2026-03-10T03:51:05+00:00
 
  রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রযুক্তি
যুদ্ধে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এআই
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫১ এএম 
সংগৃহীত ছবি
সমরক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারকে নতুন করে আতশকাচের তলায় নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত। 

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর ঠিক আগের দিনই নিজেদের এক প্রধান এআই সরবরাহকারী সংস্থাকে সরিয়ে দেয় ওয়াশিংটন। এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে নৈতিক মতবিরোধের জেরেই এই পদক্ষেপ।

এদিকে যুদ্ধে এআইয়ের আইনি ও নৈতিক ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক ঐকমত্যে পৌঁছতে এ সপ্তাহেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৈঠকে বসেন এক দল শিক্ষাবিদ ও আইনজ্ঞ। দীর্ঘদিন ধরেই স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র ও সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের প্রয়োগ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চুক্তির চেষ্টা চলছে। এই বৈঠক তারই অংশ। ফিলাডেলফিয়ার ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ার রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাইকেল হরোউইটজের মতে, প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না আন্তর্জাতিক স্তরের শ্লথ আলোচনা।

যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রেইগ জোনস সামরিক লক্ষ্যভেদ নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের ময়দানে এআইকে নিয়মনীতির আওতায় আনার চেষ্টা আপাতত ব্যর্থ। যুদ্ধে এর ব্যবহার বন্ধ রাখা বা আইনি গণ্ডিতে বাঁধার বিষয়ে কোনো ঐকমত্য না হওয়ায় এই মারণ প্রযুক্তির প্রসার এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।’

রণক্ষেত্রে ঠিক কীভাবে কাজ করছে এই প্রযুক্তি? হরোউইটজ বলেন, মার্কিন বাহিনী মূলত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল নির্ভর (এলএলএম) এআই ব্যবহার করছে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও রণক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজে।


উদাহরণস্বরূপ ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমের কথা বলা যায়। এই ব্যবস্থাটি ছবি বিশ্লেষণ করে অত্যন্ত দ্রুত শত্রুশিবিরের লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে পারে। 

ওয়াশিংটন পোস্টসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানের সাম্প্রতিক হামলাসহ আগের অনেক আক্রমণেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে। তবে এর খুঁটিনাটি এখনও জনসমক্ষে আসেনি বলে জানান হরোউইটজ। অনেকে মনে করেন, নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম হওয়ায় যুদ্ধে এআইয়ের ব্যবহার বেসামরিক প্রাণহানি কমাবে। যদিও ইউক্রেন বা গাজা যুদ্ধের বাস্তবতা অন্য কথা বলছে। ড্রোন চালনা থেকে লক্ষ্য নির্ধারণ, সব ক্ষেত্রেই এআইয়ের সাহায্য নেওয়া হলেও সেখানে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর হার আকাশছোঁয়া।

জোনস বলেন, ‘এআই ব্যবহার করলে সাধারণের প্রাণহানি কমে, এমন কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি, বরং উল্টোটাই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

মানুষের প্রত্যক্ষ নজরদারি ছাড়াই লক্ষ্য খুঁজে নিয়ে হামলা চালাতে সক্ষম ড্রোনের ব্যবহার এখন সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয়। বিদ্যমান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর পার্থক্য করতে পারা যেকোনো মারণাস্ত্রের জন্য বাধ্যতামূলক। হরোউইটজ বলেন, এলএলএম চালিত এবং মানুষের নজরদারিহীন সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বর্তমানে নির্ভরযোগ্য নয় এবং এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   যুদ্ধ  এআই 


Loading...
Loading...
প্রযুক্তি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: