যুদ্ধবিরতির আবেদন চীন-রাশিয়া ও ফ্রান্সের, শর্ত দিলো ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধ করতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী

2026-03-10T11:28:59+00:00
2026-03-10T11:28:59+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির আবেদন চীন-রাশিয়া ও ফ্রান্সের, শর্ত দিলো ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৮ এএম 
মোজতবা খামেনি (বাঁয়ে), শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন। সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধ করতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট— ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হবে না, এই নিশ্চয়তা দিতে হবে। 

তিনি বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিপক্ষে নয়, তবে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আক্রমণ বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তেহরানের মতে, এই শর্ত পূরণ না হলে যুদ্ধবিরতির প্রশ্নই আসে না। 

কীভাবে শুরু হয় সংঘাত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ভেতরে একাধিক স্থাপনায় যৌথ হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ৪০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। 

এই হামলার পরপরই ইরান প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। 

এর ফলে, সংঘাত দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান

এই পরিস্থিতিতে চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স সংঘাত বন্ধে উদ্যোগী হয়েছে। দেশগুলো ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এই তিন দেশ মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত ঠেকাতে দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান চায়। কারণ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 


ট্রাম্পের বক্তব্য

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ থেমে যেতে পারে।

তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয় বা মার্কিন স্বার্থে হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তাহলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব

চলমান সংঘাত ইতোমধ্যেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিমাণ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া ১৯৫৬–৫৭ সালের সুয়েজ খাল সংকটের সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং অনেক দেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

ইরানের সামরিক অবস্থান

ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান বর্তমানে তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করে এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।

তার মতে, ইরান এখনো তার পূর্ণ সামরিক শক্তি ব্যবহার করেনি এবং প্রয়োজন হলে আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে সক্ষম। 

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার—দুটির জন্যই বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে।



/ইউএমএইচ



Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: