ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘এক লিটার তেলও’ জাহাজে রফতানি করতে দেওয়া হবে না। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ও বিধ্বংসী হামলা চালাবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক শক্তিকে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে এবং চার সপ্তাহের আগেই যুদ্ধ শেষ হতে পারে। তবে ‘বিজয়’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাচ্ছেন তা স্পষ্ট করেননি। ইসরায়েলের দাবি, তাদের লক্ষ্য ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, মূল উদ্দেশ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূতের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন বেসামরিক ইরানি নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা তারাই নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে তারা হুমকি দিয়েছে, হামলা চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়।
সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, ফলে ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং মজুত পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক উৎপাদক তেল উত্তোলন স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলেও পরে কিছুটা কমেছে।
এদিকে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর জানিয়েছেন, তেলের ঘাটতি মোকাবিলায় কিছু দেশের ওপর আরোপিত জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। এর মধ্যে রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে, একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর তেহরান ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পাশাপাশি তুরস্ক জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় ঢুকলে ন্যাটোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ভূপাতিত করেছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা মধ্য ইরান ও লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ সীমান্তে হামলা বাড়ানোর পর ইসরায়েল লেবাননে তাদের অভিযান আরও জোরদার করেছে।
/ইউএমএইচ