১ টনের বিধ্বংসী মিসাইল ছুড়ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

​ইরান ও আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধের ১১তম দিনে এসে তেহরান তাদের সামরিক কৌশলে এক ভয়াবহ ও আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।রোববার (৮ মার্চ)

2026-03-11T01:38:34+00:00
2026-03-11T01:38:34+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
১ টনের বিধ্বংসী মিসাইল ছুড়ছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩৮ এএম   (ভিজিট : ১০৭)
সংগৃহীত ছবি
​ইরান ও আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধের ১১তম দিনে এসে তেহরান তাদের সামরিক কৌশলে এক ভয়াবহ ও আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। 

রোববার (৮ মার্চ) ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, এখন থেকে ইরান কেবল সেসব মিসাইল নিক্ষেপ করবে যেগুলোর বিস্ফোরক বহন ক্ষমতা বা পেলোড এক হাজার কেজি (১ টন) বা তার বেশি। 

সামরিক পর্যবেক্ষকরা একে যুদ্ধের ময়দানে একটি বড় ধরনের ‘ট্যাকটিক্যাল শিফট’ বা কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, যেখানে সংখ্যার চেয়ে বিধ্বংসী ক্ষমতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

​যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের কৌশল ছিল সস্তা কিন্তু কার্যকর 'শাহেদ-১৩৬' ড্রোনের মাধ্যমে শত্রুুপক্ষের প্যাট্রিয়ট বা অ্যারো-৩ এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা। এই 'স্যাচুরেশন অ্যাটাক' এর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষকে বিপুল পরিমাণ দামি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল খরচ করতে বাধ্য করা। তবে বর্তমান কৌশলে ইরান সরাসরি 'খোররামশাহর-৪' বা 'খাইবারের' মতো ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

এক হাজার কেজির বেশি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এই মিসাইলগুলো ড্রোনের তুলনায় বহুগুণ বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে এবং এর ‘ব্লাস্ট রেডিয়াস’ বা বিস্ফোরণের এলাকাও অত্যন্ত বিশাল। 

জেনারেল মুসাভির মতে, এই মিসাইলগুলো শব্দের চেয়ে আট গুণ বেশি (ম্যাক-৮) গতিতে চলে এবং গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম, যা উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ফাঁকি দিতে পারে।

​ভারী মিসাইলের এই ব্যবহার রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এক চরম চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক শানাকা আনসেলম পেরেরার মতে, ইরান এখন যুদ্ধের গাণিতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। আগে ড্রোন ধ্বংস করতে বিপুল অর্থ খরচ করা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হলেও, এখন এক টনের একটি মিসাইল লক্ষ্যভেদে সফল হলে তা আস্ত একটি বিমানঘাঁটি বা ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করে দিতে পারে। ফলে প্রতিটি ইনকামিং মিসাইল আটকাতে এখন আরও বেশি ইন্টারসেপ্টর মোতায়েন করতে হবে, যা প্রতিরক্ষা মজুতকে দ্রুত শূন্য করে ফেলবে।

​লেবানিজ সংবাদমাধ্যম ‘আল মায়াদিন’ এর তথ্যমতে, দুবাইয়ের বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাস তানুরাজ তৈল শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এখন ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র করছে। ইরানের অস্ত্রাগারে বর্তমানে খোররামশাহ, সেজিল এবং পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন সুমারের মতো শক্তিশালী মিসাইল রয়েছে। 

মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে তেহরানের এই নতুন সামরিক নীতি এবং আমেরিকার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র পাল্টা জবাব মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   ইরান  আমেরিকা  ইসরায়েল  যুদ্ধ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: