১১৫ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশ তাড়া করল ১৫.১ ওভারেই। ৩২ বলে ফিফটা করা তানজিদ অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রানে। ২৭ রান করেছেন নাজমুল।
বাংলাদেশের হাতে ছিল ২০৯ বল, ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এর চেয়ে বেশি বল হাতে রেখে জিতেছে মাত্র দুই ম্যাচে।
বাংলাদেশের জয়ের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান পেসার নাহিদ রানার। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার।
গতি আর বাউন্সে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে আতঙ্ক ছড়িয়ে যেন ধ্বংসযজ্ঞ চালালেন নাহিদ। তরুণ পেসারের বিধ্বংসী বোলিংয়ে বড় জয়ে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।
যে ম্যাচ শেষ হওয়ার কথা রাত ১০টার আশেপাশে, সেই খেলা শেষ ইফতারের আগেই!
মিরপুরে বুধবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান শুরুটা করেছিল বেশ ভালোই। দশম ওভারে আক্রমণে আসেন নাহিদ। তার প্রথম স্পেলেই পাকিস্তানের ব্যাটিং রূপ নেয় অনেকটা ধ্বংসস্তুপে।
প্রথম ওভারেই দলকে এনে দেন তিনি প্রথম ব্রেক থ্রু। সেই পধ ধরে ছুটে প্রথম পাঁচ ওভারের প্রতিটিতেই শিকার করেন উইকেট!
তার সঙ্গে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ বোলিংয়ে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
ব্যাটিং লাইন আপে চার অভিষিক্তকে নিয়ে একাদশ সাজায় পাকিস্তান। প্রথম ৯ ওভারে উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এরপর নাহিদের হাতে বল তুলে দেন মিরাজ।
ওভারের চতুর্থ বলে আলগা ডেলিভারিতে চার হজম করেন তিনি। ওভারের শেষ বলে ধরা দেয় উইকেট। সেই বলও মারার মতোই ছিল। কিন্তু গতির কারণেই পয়েন্টে ধরা পড়েন সাহিবজাদা (৩৮ বলে ২৭)।
সেই শুরু। আরেক অভিষিক্ত শামিল হোসেন উইকেট হারান গতি সামলাতে না পেরেই। শুরু থেকে সাবলিল থাকা সাদাকাত (১৮) বিদায় নেন শর্ট বলের তোপে।
পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ এই ব্যাটিং লাইন আপে সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন মোহাম্মাদ রিজওয়ান। তার জন্যই সেরা ডেলিভারিটি জমা রাখেন নাহিদ। গতিময় আউট সুইঙ্গার ছুঁয়ে যায় রিজওয়ানের ব্যাটের কানা, উইকেটের পেছনে ভালো ক্যাচ নেন লিটন।
পরের ওভারে আবার শর্ট বলে সালমান আলি আগাকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন ৫ উইকেট।
এরপর রান তাড়ায় সাইফ হাসান (৪) দ্রুত আউট হলেও তানজিদ হাসানের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। তিনে নেমে দারুণ সঙ্গ দেন নাজমুল হোসেন শান্তও।
৩২ বলে ফিফটি করা শান্ত শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৭ রান করে। জয়ের কাছে গিয়ে আউট হন শান্ত (৩৩ বলে ২৭)। লিটন কুমার দাসকে নিয়ে কাজ শেষ করেন তানজিদ।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ শুক্রবার।