ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার বিরোধিতা এবং গাজা আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থার জেরে ইসরাইল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্পেনের সরকারি গেজেটে রাষ্ট্রদূতের পদ অবসানের এই ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন থেকে তেল আবিবে তাদের দূতাবাস কেবল একজন ‘চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স’ বা অস্থায়ী প্রতিনিধি দিয়ে পরিচালিত হবে।
দুই দেশের এই তিক্ততার সূত্রপাত মূলত গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে। গাজা অভিযানের প্রতিবাদে ইসরাইলগামী কোনো অস্ত্রবাহী বিমান বা জাহাজকে নিজেদের আকাশসীমা বা বন্দর ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মাদ্রিদ।
এই পদক্ষেপের কারণে গত সেপ্টেম্বরেই রাষ্ট্রদূতকে স্পেনে তলব করা হয়েছিল।
ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার স্পেনের এই নীতিকে ‘অ্যান্টিসেমিটিক’ বা ইহুদিবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেন।
পরবর্তীতে গত মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকে। এর প্রতিবাদে ইসরাইল তখনই স্পেন থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত সরিয়ে নিয়েছিল, ফলে স্পেনে ইসরাইলি দূতাবাসও বর্তমানে একজন অস্থায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে চলছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।
মার্চের শুরুতে গিডিয়ন সার স্পেনকে যুদ্ধের বিরোধিতা করার জন্য ‘স্বৈরাচারীদের পক্ষ নেওয়ার’ দায়ে অভিযুক্ত করেন, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে স্পেন এখন স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল।
সময়ের আলো/আরবিএন