বছরের বারো মাসের মধ্যে মুমিনদের জন্য রমজান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রমজান মাসকে বলা হয় ইবাদতের বসন্ত মাস। এই মাসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়— রহমত, বরকত ও নাজাত। আমরা প্রথম দুই দশক পেরিয়ে শেষ দশক অতিবাহিত করছি। রমজানের শেষ সময়গুলো খুবই মূল্যবান।
এখনও যারা গাফিলতির মধ্যে আছি, আমাদের উচিত বাকি দিনগুলো কাজে লাগানো। বেশি বেশি ইবাদতে মশগুল থেকে পুরো বছরের পুঁজি সংগ্রহ করা। বিশেষ করে তাহাজ্জুদের নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-ইস্তিগফার, দোয়া-দরুদ এসব আমলের মধ্য দিয়ে সময়টা অতিবাহিত করা। এ ছাড়া সেহরি-ইফতারে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদেরও খেয়াল রাখা। অসহায়-গরিবদের মাঝে দান-সদকার হাত প্রসারিত করা। সম্পদের হিসাব করে জাকাত প্রদান করা।
রমজানে কিয়ামুল লাইল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। কিয়ামুল লাইল শব্দের অর্থ রাতের নামাজ। তারাবিহর নামাজ যেমন কিয়ামুল লাইলের মধ্যে পড়ে, তেমনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদও সালাতুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত। রমজানে যেহেতু প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাই এ মাসে যথাসাধ্য বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ও কুরআন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে।’ (আহমাদ : হাদিস ৬৬২৬)
এ মাসেই যেহেতু কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হয়েছে, তাই বেশি বেশি কুরআন নিয়েও মশগুল থাকা উচিত। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে এসেছে, জিবরাঈল (আ.) রমজানে প্রতি রাতে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাঁকে কুরআন শোনাতেন (বুখারি : হাদিস ১৯০২)। তারাবিহর নামাজ রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। মাহে রমজানে এশার নামাজের পর দুই দুই রাকাত করে বিশ রাকাত তারাবিহর নামাজ আদায় করা রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর আমল, যা বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব হাসিলের আশায় রমজানে কিয়ামুল লাইল আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি : হাদিস ২০০৯)
রমজানের শেষ সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা চাই। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিন সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল-বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো’ (সুরা আহজাব : ৪১-৪২)। হাদিস শরিফে দোয়াকে বলা হয়েছে ‘ইবাদতের মগজ’।
অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে আল্লাহ তায়ালা রমজানের প্রতিদিন ও প্রতি রাতে বহুসংখ্যক লোককে মুক্তিদান করেন এবং প্রত্যেক মুসলমানের একটি দোয়া প্রতিদিন কবুল হয়। দোয়া-মোনাজাত ও ইস্তেগফারের পাশাপাশি সহজ-সহজ জিকির ও তসবিহ পাঠ করেও অধিক সওয়াবের অধিকারী হতে পারি। মহান আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি নেক আমলের মাধ্যমে রমজানের বাকি সময়টুকু অতিবাহিত করার তওফিক দান করুন।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক
এফআর