সম্পদের ট্যাক্স বা আয়কর দিলে জাকাত দিতে হবে কি না, কিংবা ট্যাক্স দিলে জাকাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কি না? এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আগে আমাদের জানতে হবে জাকাত ও আয়কর কী? জাকাত একটি আরবি শব্দ। বাংলায় এর দুটি অর্থ রয়েছে- বৃদ্ধি ও পরিশুদ্ধকরণ।
পরিভাষায়, ‘ধন-সম্পদে আল্লাহ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট ও ফরজকৃত অংশই হলো জাকাত’ (ইসলামের জাকাত বিধান, ১ম খণ্ড)। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটা নির্দিষ্ট সময় তথা পূর্ণ এক বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ, সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা, ব্যবসায়ী পণ্য কিংবা নগদ অর্থ কারও মালিকানায় থাকলে তার ওপর জাকাতের হুকুম বর্তায়। এ ক্ষেত্রে জাকাতের হার হলো সঞ্চিত সম্পদের ১/৪০ অংশ বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
আর আয়কর মানে হচ্ছে আয় থেকে কর। কোনো ব্যক্তি বা সত্তার ওপর সরকার কর্তৃক আরোপিত কর, যা আয় বা লভ্যাংশের পরিমাণভেদে পরিবর্তিত হয়। এটি রাষ্ট্রের সব জনসাধারণের স্বার্থে রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রদত্ত বাধ্যতামূলক অর্থ।
জাকাত প্রত্যেক স্বাধীন সুস্থ মস্তিষ্ক প্রাপ্তবয়স্ক নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী মুসলিম নর-নারীর জন্য আল্লাহর নির্দেশিত অন্যতম ফরজ ইবাদত। জাকাত মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তিদানের লক্ষ্যে প্রবর্তিত হয়েছে। জাকাতের অর্থ শুধু কুরআনে নির্দেশিত খাতেই ব্যয় করতে হবে।
এটি প্রত্যেক মুমিনের জন্য আর্থিক ফরজ ইবাদত। জাকাতের সম্পর্ক আল্লাহ ও বান্দার সঙ্গে। ট্যাক্স বা আয়কর হলো সরকারি কর। সরকার এই কর যেকোনো কাজেই ব্যয় করতে পারে। ট্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্ক হচ্ছে সরকার ও জনগণের। ট্যাক্সের টাকার উপকার ট্যাক্সদাতাও ভোগ করতে পারবেন। কিন্তু জাকাতদাতা জাকাতের অর্থ কোনোভাবেই ভোগ করতে পারবেন না।
রাষ্ট্রকে যে পরিমাণ ট্যাক্সই দেওয়া হোক না কেন তাতে জাকাত আদায় হবে না। বরং ট্যাক্স পরিশোধের পর সম্পদ নিসাব পরিমাণ থাকলে এবং তা এক বছর অতিবাহিত হলে তাতে জাকাত দিতে হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৯/২৮৫)
সময়ের আলো/কেএইচও